নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > নির্বাচিত প্রবন্ধ > জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ১২ বিলিয়ন ডলার পাচারের বানোয়াট অভিযোগ

জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ১২ বিলিয়ন ডলার পাচারের বানোয়াট অভিযোগ

18 July 2018, আসাদ হোসেইন PrintShare on Facebook

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে সংসদে স্বভাবগত বিষেদগার করার সময় শেখ হাসিনা দাবি করেন জিয়া পরিবারের ১২ বিলিয়ন ডলার পাচার সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তাঁর হাতে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) এর দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার কথা জানান তিনি। এর কিছুদিন পর শেখ হাসিনা’র তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদিত ওয়েবসাইট observerbd.comহিন্দুত্ববাদী পত্রিকা জনকন্ঠ দাবি করে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় জিয়া পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রচার করেছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরী তাঁর ওয়েব সাইটের বাংলা ভার্ষনে আরবভিত্তিক একাধিক টিভি চ্যানেল ও কানাডিয়ান টেলিভিশন চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল’কে, আর ইংরেজি ভার্ষনে আরবভিত্তিক Global Intelligence Network (GIN) টিভি চ্যানেল ও কানাডিয়ান টেলিভিশন চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল’কে সুত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্য দিকে জনকন্ঠ উৎস হিসেবে দুবাই ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল ও বাংলাদেশ প্রেস অনলাইন-এর নাম উল্লেখ করেন। ৩০ শে নভেম্বর ২০১৭ সালে ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রকাশিত এক সংবাদে "খালেদা জিয়ার দুর্নীতি" (Khaleda’s corruption) শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন ভিডিওটি দুবাই ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল প্রচারিত প্রতিবেদন থেকে নেয়া।

জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত টাকা পাচারের অভিযোগ প্রত্যাশিত আলোড়ন সৃষ্টি করতে না পারায় শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন। কম্বোডিয়া সফর শেষ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে তথ্য ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ করেন। শেখ হাসিনার অভিযোগের জবাব দিয়ে অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ২৪.কম ও সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা শেখ হাসিনার দেয়া সুত্রগুলোর সন্ধান না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য দুবাই ভিত্তিক দ্য ন্যাশনাল নামক একটি পত্রিকা রয়েছে কিন্তু কোনো টিভি চ্যানেল নেই, Global Intelligence Network কিংবা কানাডায় দ্যা ন্যাশনাল নামক কোন টিভি চ্যানেল নেই। অন্য দিকে শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রকাশিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় সাংবাদিকের ঠোটের সাথে উচ্চারিত শব্দের কোন সংযোগ নেই। তিনি দুবাই ভিত্তিক দ্য ন্যাশনাল নামক পত্রিকা’র লোগো ব্যাবহার করে ভিডিওটি নিজেই তৈরি করেছেন এবং সংবাদ পাঠিকার কন্ঠের জন্য গুগল অনুবাদ ব্যাবহার করেছেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে তাঁর সুত্রগুলোর সঠিক ঠিকানা দিতে একাধিকবারঅনুরোধ করা হলেও কোন প্রকার তথ্য দিতে অস্বিকার করেন এবং প্রয়োজনে আদালতের স্বরনাপন্ন হতে বলেন।

https://www.youtube.com/embed/3XhZ41eS7Bw
Khaleda's corruption - YouTube

হাসিনার উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী কিভাবে ভুয়া ভিডিও তৈরি করেছেন?

ইকবাল সোবহান চৌধুরী’র ভিডিওতে কণ্ঠ দেয়ার জন্য গুগল অনুবাদ ব্যাবহার করেছেন। সাংবাদিক দেখতে ইউরোপিয়ান মনে হলেও ইংরেজি উচ্চারনে ইন্ডিয়ান একসেন্ট রয়েছে। এর কারন, হয় যিনি ভিডিওটি তৈরি করেছেন তিনি ইন্ডিয়াতে অবস্থান করার কারনে গুগল সয়ংক্রিয়ভাবে ইন্ডিয়ান এক্সেন্ট বেছে নিয়েছে, না হয় ভিডিও নির্মাতা ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্ডিয়ান এক্সেন্ট বেছে নিয়েছেন যাতে আমজনতা গুগলের কণ্ঠ বুঝতে না পারে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী’র ভিডিওতে কণ্ঠ যে গুগলের তা পরীক্ষা করার জন্য ভিডিওটির প্রথম অংশে পড়া বক্তব্য নিচে দেয়া হল। গুগল অনুবাদের পাতায় এই বক্তব্যটি পেস্ট করার পর উপরে হিন্দি ভাষা সিলেক্ট করে নিচে "লিসেন" বোতামে ক্লিক করুন।

Saudi Arabia has announced it will confiscate money and assets held by dozens of top officials and businessmen detained in an anti corruption crackdown. The anti corruption committee has asked banks and finance companies to provide information on the accounts of nineteen Saudi citizens and five foreign nationals. The off shore scrutiny of assets has also listed foreign nationals of different countries. Saudi officials say that the anti corruption committee under the royal decree named former prime minister of Bangladesh begum Khaleda Zia, Saad Hariri of lebanon and Nawaz Sharif of Pakistan for money laundering bribery extortion and taking advantage of public office for personal gain. These information were also reported in the G. I. N. and reports. ইকবাল সোবহান চৌধুরী কিভাবে ভুয়া ভিডিও তৈরি করেছেন

শেখ হাসিনার তথ্যের উৎস

শেখ হাসিনা, তাঁর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও জনকন্ঠ একই নামকে একবার পত্রিকা, একবার টিভি চ্যানেল, একবার গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করে তাদের তথ্যের উৎস সম্পর্কে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছেন। অনুসন্ধানের পর দুইটি উৎস চিহ্নত করা গিয়েছে যার প্রথমটি হল যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা “গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন)”, দ্বিতীয়টি হল আওয়ামীলীগ প্রতিপালিত সৈয়দ বোরহান কবীর সম্পাদিত ওয়েবসাইট “বাংলা ইনসাইডার”। জিআইএন আমেরিকার কুখ্যাত মেহু পরিবার প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা যারা টাকার বিনিময়ে বড় কোম্পানির হয়ে কাজ করে। জিআইএন নিজেদেরকে তথ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করলেও প্রতিপক্ষ কোম্পনির বিরুদ্ধে চক্রান্ত, হত্যা ও মাফিয় জগতের সাথে জড়িত থাকার জন্য মেহু পরিবার আমেরিকায় কুখ্যাত (বিস্তারিত: A PLOT ON ONASSIS CHARGED IN ARTICLE)। অন্যদিকে সৈয়দ বোরহান কবীর সম্পাদিত ওয়েবসাইট “বাংলা ইনসাইডার” সূত্র-ছাড়া কাল্পনিক গুজব ছড়ানোয় বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।

হাসিনার অপপ্রচারে সঙ্গী হিন্দুত্ববাদীরা

হাসিনা ও হিন্দুত্ববাদীরা

শেখ হাসিনার দেয়া তথ্যের উৎস সম্পর্কে বাংলাদেশে যখন বিতর্ক চলছিল তখন ইন্ডিয়ার প্রাক্তন সরকারি কর্মচারি শান্তনু মুখার্জি জিয়া পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যখন ইকবাল সোবহান চৌধুরীর দেয়া সূত্রগুলোর বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সেখানে শান্তনু মুখার্জি সোবহান চৌধুরীর বক্তব্যকে ভিত্তি করে তাঁর প্রবন্ধটি লিখেন। আর শান্তনু মুখার্জি’র বিতর্কিত প্রবন্ধটিকে বরাত করে জনকন্ঠ আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে (খালেদা তারেকের সৌদি বিনিয়োগের মুনাফায় জঙ্গী অর্থায়ন) যেখানে দাবি করা হয় জিয়া পরিবারের পাচার করা ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে উপার্জিত অর্থে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ ও ইন্ডিয়ায় সন্ত্রাসবাদ তৈরি করেছেন। জিয়া পরিবারের চরিত্র হননের এই পরিকল্পনায় অংশ নেয় বিবিসি’র মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও। ২০ ডিসেম্বার ২০১৭ সালে "বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দিয়ে উকিল নোটিশ পাঠালেন খালেদা জিয়া" শিরোনামে প্রকাশিত এক সংবাদে বিবিসি কৌশলে দাবি করে একাধিক বিদেশি মিডিয়া জিয়া পরিবারের দুর্নীতি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রচার করেছে। বিএনপি কর্মকর্তাদের প্রতিবাদে তারা এই দাবি প্রত্যাহার করে নিলেও ভুল স্বিকার ও ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।

বোনাস

৫ টি বাজেটের মোট বরাদ্দ ছিল ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮ শত ৮০টাকা অর্থাৎ ৪৬.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যার মধ্যে উন্নয়ন বাজেট মোট ১৮.৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তো ওবায়দুল কাদের সাব?যেখানে জোট সরকারের পুরো পাঁচ বছর সময়কালে উন্নয়ন বাজেটই সর্বমোট ১৮.৮১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সেখানে জিয়া পরিবারের ১২ বিলিয়িন মার্কিন ডলার পাচারের গাঁজাখুড়ি গল্প কই পাইলেন??
Jamil Sikder Sazzad


ঘটনাক্রম

  • ১৩/০৯/২০১৭: জিয়া পরিবারের দুবাইসহ ১২টি দেশে ১২শ’ কোটি টাকা পাচার সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছে - শেখ হাসিনা
  • ১৩/০৯/২০১৭: ‘দুবাইসহ অন্তত ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের সম্পদ আছে। এই সম্পদের পরিমাণ এক হাজার দু’শো কোটি টাকা - জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম
  • ১০/১০/২০১৭: দুর্নীতিতে জিয়া পরিবার বিশ্বে ৩য় - সৈয়দ বোরহান কবীর
  • ৩০/১১/২০১৭: খালেদার মানি লন্ডারিং নিয়ে বোমা ফাটালো আন্তর্জাতিক মিডিয়া - ইকবাল সোবহান চৌধুরী
  • ৩০/১১/২০১৭: আটক সৌদি শাহজাদাদের দুর্নীতির সঙ্গে খালেদা তারেকের নাম? - জনকণ্ঠ
  • ০৬/১২/২০১৭: Why anti-corruption drive in Saudi Arabia spells bad news for Bangladesh’s Khaleda Zia - শান্তনু মুখার্জি
  • ০৭/১২/২০১৭: সৌদি আরবে যে খালেদা জিয়ার বিশাল সম্পদ, শপিংমল ইত্যাদি পাওয়া গেছে এটা তো আমরা কিছু করেনি। ....কই আপনাদের তো এটা নিয়ে নিউজ দেওয়ার বিষয়ে কোনও আগ্রহ দেখলাম না। রহস্যটা কি? আপনার কী ওখানে বিনা পয়সায় শপিং করার কোনও কার্ড পেয়েছেন? - শেখ হাসিনা
  • ০৯/১২/২০১৭: খালেদা তারেকের সৌদি বিনিয়োগের মুনাফায় জঙ্গী অর্থায়ন - জনকণ্ঠ
  • ০৯/১২/২০১৭: প্রধানমন্ত্রী যে তথ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন, সেই তথ্য নিশ্চয় রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা সরবরাহ করেছে। আর যাই হোক এটা বিশ্বাস করতে চাই না যে, রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বা অসত্য তথ্য সরবরাহ করেছেন। - গোলাম মোর্তোজা
  • ১০/১২/২০১৮: জিয়া পরিবারের ডলার পাচারের বিষয়ে দুদককে খোঁজ নিতে হবে - ওবায়দুল কাদের
  • ১৮/১২/২০১৭: জিয়া পরিবার ৯৫০ কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে - শেখ হাসিনা
  • ২০/১২/২০১৭: শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দিয়ে উকিল নোটিশ পাঠালেন খালেদা জিয়া
  • ২২/১২/২০১৭: আওয়াজ থেকে আমরা খালেদা জিয়ার দুর্নীতির কথা বলছি - আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
  • ২৩/১২/২০১৭: বিবিসির খবরের প্রতিবাদে বিএনপির দুই উপদেষ্টা: ’বিদেশি গণমাধ্যমে এমন খবর প্রচার হয়নি’

Keywords

- - - - - -