নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > প্রেস রিভিউ > আ. লীগের ২৬ নেতা জড়িত

আ. লীগের ২৬ নেতা জড়িত

Friday 31 July 2020, by kalerkantho
Updated: Friday 31 July 2020

দিনাজপুুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দুই ছাত্র খুনের অভিযোগপত্র গতকাল বৃহস্পতিবার জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে ২৬ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া খুনের কারণ হিসেবে তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি) বিরোধী আন্দোলনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের (সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সভাপতি আবু ইবনে রজব, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাকির, শহরের দক্ষিণ বালুবাড়ীর রশিদুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা সিরাজুল সালেকিন রানা, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহমুদুল হাসান ওরফে সিঙ্গেল, ছাত্রলীগ নেতা হারুনুর রশিদ ওরফে রায়হান, রকিবুল ইসলাম মিথুন, যুবলীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মাসুম, ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আহমেদ নয়ন, ঘাষিপাড়ার মমিনুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস জোহা, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানার আমিনুল ইসলাম, খানসামা উপজেলার আশরাফুল আলম, ফুলবাড়ির নাজমুল হাসান ওরফে মামুন, সদর উপজেলার কামরুজ্জামান ওরফে কামু, বড়ইল গ্রামের জুয়েল ইসলাম, উত্তর বালুবাড়ীর নাছিম আলী, ক্ষেত্রীপাড়ার তায়েফ বিন শরীফ, বড়ইল মোল্লাপাড়ার আবু হারেজ ওরফে বুলু, রাজবাড়ী সুখসাগরের আজিজার রহমান, দিনাজপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ সুজন, পুলহাটের আরমান বিশ্বাস, উপশহর এলাকার আরাফাত হোসেন, কসবা মিশন রোডের শহিদুল ইসলাম ওরফে সাজু ও আবু সাঈদ শেরু।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় তৎকালীন ভিসি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও বিভিন্ন মতের কিছু ছাত্র স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভিসির পক্ষ নেয়। এরা নতুন গ্রুপ তৈরি করে ছাত্রলীগের আন্দোলন দমন করার জন্য। একপর্যায়ে তারা মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতারিত করে। বিতারিতরা আধিপত্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে। ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল রাত ৮টায় অডিটরিয়াম-১-এ ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলছিল। দুটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে অডিটরিয়ামে ঢুকে ককটেল বিস্ফোরণ ও এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে ছাত্রলীগের আরেক গ্রুপের নেতাকর্মীরা শেখ রাসেল হলে গিয়ে অবস্থান নেয়। হামলাকারীরা চারদিক থেকে শেখ রাসেল হল ঘেরাও করে হামলা চালায়। একপর্যায় তারা শেখ রাসেল হলের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে আবু ইবনে রজব ও বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চনের নেতৃত্বে অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। সেখানে দুই ছাত্র মারা যায়।

খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়।

এ ছাড়া ২০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আব্দুল নুর বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। গত বছরের মার্চে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তরিত করা হয়। আদালত ফৌজদারি মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলা দুটির তদন্ত স্থগিত করেন।

গত পাঁচ বছরেও মামলার কোনো কূল-কিনারা না হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিহত জাকারিয়া ও মাহমুদুল হাসান মিল্টনের মা-বাবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। এরপর আবু ইবনে রজব ও সাব্বির আহমেদ সুজনকে গত ১১ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও পোস্টারিং করা হয়।

গত বুধবার দিনাজপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-১ (সদর)-এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী সিআইডির ওসি রমজান আলী। দিনাজপুর আদালত পুলিশের পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘চার্জশিটের কপি পেয়েছি।’