নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > প্রেস রিভিউ > দুই এমপিকে পাপুল দেন সাড়ে ১১ কোটি টাকা ঘুষ

দুই এমপিকে পাপুল দেন সাড়ে ১১ কোটি টাকা ঘুষ

Wednesday 15 July 2020, dailyinqilab Print

কুয়েতে গ্রেফতার হওয়া এমপি শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, সাদুন হামাদ আর ওতাইবি ও সালাহ আবদুলরেধা খুরশেদ এই দুই এমপিকে তিনি সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার দিনার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। গত সোমবার কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের দফতর ও তদন্ত সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে কুয়েত থেকে প্রকাশিত আরবি দৈনিক ‘আন নাহার’ ও ‘আল কাবাস’ এ খবর জানিয়েছে।

মানবপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের এমপি শহিদ ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তার মদদদাতা হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। কুয়েতের সংসদ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ নিয়ে সরব হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে দুই এমপির ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার সুপারিশ করেছে কুয়েতের একটি সংসদীয় কমিটি। কুয়েতের সংসদের আসন্ন অধিবেশনের আলোচ্য সূচিতে শহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ায় অভিযুক্ত দুই সংসদ সদস্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে স¤প্রতি একটি সংসদীয় কমিটি সাদুন হামাদ আর ওতাইবি ও সালাহ আবদুলরেধা খুরশেদের প্রধিকার কেড়ে নেয়ার সুপারিশ করেছে। কমিটির সুপারিশ সংসদের অনুমোদন পেলে শহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তাদের কোনো বাধা থাকবে না।

পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে কুয়েতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সিরিয়ার এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কুয়েত সিটির দক্ষিণ সুরা এলাকায় এমপি সাদুন হামাদ আর ওতাইবির কাছে ঘুষ হিসেবে নগদ ৫০ হাজার দিনার বা প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেন শহিদ ইসলাম। বাংলাদেশের এমপি শহিদ তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, নির্বিঘেœ তার প্রতিষ্ঠানের বিল পাওয়ার জন্য কুয়েতের এমপিদের তিনি ঘুষ দিয়েছিলেন।

কুয়েতের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছে শহিদ ইসলামের প্রতিষ্ঠান মারাফিয়া কুয়েতিয়া। ওই প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। কোনো রকম অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে শহিদ ইসলাম ৩ লাখ ৭০ হাজার দিনার বা ১০ কোটি ২১ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন কুয়েতের এমপি সালাহ আবদুলরেধা খুরশেদকে। বেশ কয়েক ধাপে ওই ঘুষ কুয়েতি এমপির বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

কুয়েতি পত্রিকাগুলোর খবর হলো- তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে শহিদ ইসলাম স্বীকার করেছেন, অনুমতি ছাড়া কর্মী নেয়ার পাশাপাশি কুয়েতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ পেতে বিভিন্নজন তাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই লোকজনকে তিনি নগদ ও চেকের মাধ্যমে টাকা ধার দিতেন। দামি উপহার দিয়েছেন।

Keywords: ,