নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > উপসম্পাদকীয় > কাদের সিদ্দিকী > মহিলা প্রধানমন্ত্রী, তবু নারী নির্যাতিত

মহিলা প্রধানমন্ত্রী, তবু নারী নির্যাতিত

Thursday 10 January 2013, by কাদের সিদ্দিকী
Updated: Friday 10 July 2020

গত পরশু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে হরতাল করায় সাধারণ মানুষ বলছে, ভালোই করেছে। জ্বালানির দাম বাড়ালে হরতাল করবে না তো কী করবে?

বাংলাদেশে এখন নারী নেতৃত্বের স্বর্ণযুগ। যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই উচ্চাসনে শুধু নারী আর নারী। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেত্রী, জজ, ব্যারিস্টার, বড় বড় ব্যবসায়ী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কোথায় নেই নারী। নারী প্র্রগতির এ যেন এক স্বর্ণযুগ। কিন্তু রাষ্ট্রীয় উচ্চাসনে অনেক নারী বা মহিলা জাঁকিয়ে থাকলেও বাস্তবে কেন যেন নারীর বড় দুঃসময় চলছে এখন। সামাজিকভাবে অবহেলিত, নিপীড়িত, নিষ্পেষিত, আর্থিক দৈন্যে একেবারে ম্রিয়মাণ। কাকের মাংস কাকে না খেলেও নারীর শত্রু যে নারী এটা শাশ্বত সত্য। নিদারুণ কষ্টে আছি। খালেদা জিয়া হঠাৎ করে বললেন, ’সাপকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু আওয়ামী লীগকে নয়।’ সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের জবাব, বেগম জিয়া কালনাগিনী। সাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে ঘুরছেন।’ বেগম খালেদা জিয়া তবু আওয়ামী লীগকে সাপ বলেছিলেন, একটা রাজনৈতিক সংগঠনকে আক্রমণ করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরাসরি একজন ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বসল কালনাগিনী বলে। সাপের ঝাঁপি মাথায় সাপিনীরূপে।

বিএনপি আবার সেই ঝাঁপিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি আর প্রশান্তির ঝাঁপি হিসেবে আখ্যায়িত করল। আওয়ামী লীগ নেত্রীর সর্বশেষ বাণী, ’সাপুড়ে মরে সাপের কামড়ে।’ এতে অনেক হাততালিও পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের দুই নেত্রী মহিলা। তাদের কথা মায়া, মমতা, রসকষহীন একেবারে সুর-লয়-তাল ছাড়া। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। ইন্দিরা গান্ধীর আগে সেখানে আর কোনো মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। তবে ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথ ছিলেন একজন মহিলা। অত বড় দেশ ভারতে যখন একজন মহিলা প্রধানমন্ত্রী তখন আমাদের দেশে প্রধান নারীনেত্রী কল্পনাও করা যেত না। ’৮১ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের সূচনা হয় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে। জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে পা রাখতে না রাখতেই সামরিক শাসক বীরউত্তম জিয়াউর রহমান নিহত হন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। এর পর স্বামীহারা গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে আনা হয়। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বীরউত্তম জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের ভোটে প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন স্বামীর মৃত্যুজনিত কারণে শ্রীলঙ্কার মাভো বন্দরনায়েক। বাংলাদেশের বেগম খালেদা জিয়া, ইসরাইলের গোল্ডা মায়ার। ইংল্যান্ডেও মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন আয়রন লেডি মার্গারেট থ্যাচার। মার্গারেট থ্যাচার ইংল্যান্ডের অর্থনীতিতে মারাত্দক ধস নামিয়েছিলেন। ইসরাইলের গোল্ডা মায়ার তেমন ভালো কিছু করতে পারেননি। তবে ইন্দিরা গান্ধী ভারতে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছিলেন। ভারতে যখন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী তখন বাংলাদেশে কোনো প্রধান মহিলা নেত্রীর কথা কল্পনাও করা যেত না। কিন্তু রাজনৈতিক বড় বড় দুঃসময়ে মহিলা নেত্রীরা দারুণ যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। ’৬৬-র ৬ দফা আন্দোলনে এক পর্যায়ে আমেনা বেগমের ভূমিকা স্মরণ রাখার মতো। আজ আওয়ামী লীগের যে যতই বাহাদুরী করুন, ফাটুস ফুটুস করুন, বঙ্গতাজ তাজউদ্দীনের স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দীন হালভাঙা পালছেঁড়া নৌকার মাঝি না হলে আজ নৌকার ছাল-বাকলও পাওয়া যেত না।

বাংলাদেশে কোনো মহিলা সরকার প্রধান হতে পারে, যা ছিল এক সময় চিন্তারও অতীত। আজ তা-ই বাস্তব। ভবিষ্যতে কোনো কাপুরুষ নয়, বীর পুরুষ এদেশের সরকার প্রধান হবে_ এটা অনেকে এখন ভাবতেই পারে না। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে যখন অনেকে সাহস করে সত্য কথা বলতে পারে না বা বলতে চায় না, সেই সময় পাঠককুল আমার কথা ভাববেন না, বরং আমাকে বাদ দিন। আমি মরলেই কি আর বাঁচলেই কি। ’৭১-এ হানাদারদের গুলিতে মরিনি, ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই মরা উচিত ছিল, মরিনি। ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ সংগ্রামে পাবনার নিশ্চিন্তপুরে হেলিকপ্টার নিয়ে আমার ওপর আক্রমণ হয়েছিল। ওই আক্রমণে আমি না মরে বগুড়ার আবদুল খালেক খসরু শহীদ হয়। আওয়ামী লীগ ছাড়ার পর কতবার আওয়ামী গুণ্ডারা গাড়ি ভেঙেছে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠালগ্নে সভামঞ্চে গুলি চালিয়ে ১০৪ জন কর্মীকে রক্তাক্ত করেছিল।

তার মধ্যে কয়েকজনের হাত ও একজনের চোখ নষ্ট হয়। তারপরও বেঁচে আছি। প্রতিদিন গ্রেফতারের হুমকি মাথায় নিয়ে ঘুরছি। কোনো পরোয়া করি না। আমি ভয় না করলে কী হবে, আমি লিখলেই বা কী হবে? কতজন কত উদ্বেগ নিয়ে বলে, আপনাকে খুব ভালোবাসি, সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি, আপনাকে সমর্থন করি। কোন দল করেন জিজ্ঞাসা করলে হয় আওয়ামী লীগ না হয় বিএনপি। সমর্থন করে আমাকে, শ্রদ্ধা করে ভালোবাসে কিন্তু দল করে আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপি। দেখা হলে কত অনুযোগ-অভিযোগ এভাবে দেশ চলে না; কিন্তু অাঁচল ছাড়ে না। কত বড় নেতা তোফায়েল আহমেদ, সেদিন তার খেদোক্তি শুনে অবাক হয়েছি। লোকটিকে এতকাল সাহসী মানুষ হিসেবেই জানতাম। কিন্তু সাহসী ও আত্দমর্যাদাবান মানুষ কখনো দেশবাসীকে হতাশ করতে অমন বলতে পারে? কলম যদি চলে ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে দু’এক পর্ব লেখার ইচ্ছা রইল। আজ নারী নেতৃত্ব, নারী নির্যাতন নিয়েই লেখি।

ক’দিন হলো ভারত জ্বলছে, ভারত ফুঁসছে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে। আমার দেশেও একের পর এক নারী নির্যাতন হচ্ছে। আগেই বলেছি, নারীর শত্রু নারী। গত ৬ ডিসেম্বর মধুপুর তার প্রমাণ। টাঙ্গাইল সদরের ময়না নামের ১৫ বছরের মেয়েটিকে দুশ্চরিত্রা বীথি নামে আরেক নারী তার সর্বস্ব হরণ করেছে। টাঙ্গাইল সদরের আগবেতৈরের রিকশাচালক ফয়েজ উদ্দিনের মেয়ে পাশের স্কুলে ক্লাস নাইনের ছাত্রী। দেখতে শুনতে এবং লেখাপড়ায় বেশ ভালো, বেতৈর বাজারে এক দোকানে সেলাইর কাজও সে শিখত। ভালো মেয়ে বলে আশপাশের সবাই তাকে আদর-স্নেহ করত। হঠাৎ করেই বেতৈর বাজারে দুশ্চরিত্রা বহুরূপী বীথি আক্তার ইভার সঙ্গে ময়নার পরিচয়। বীথি ময়নাকে সিনেমায়, নাটকে নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখায়। ময়নার বাবা-মা’র সঙ্গে মেলামেশা করে তাদের মন জয় করে ফেলে।

অভিনয়পটু বীথির মধুর ব্যবহারে হতদরিদ্র ফয়েজ উদ্দিনের পরিবার মুগ্ধ হয়ে যায়। ১৫ দিন যেতে না যেতে ভাইয়ের বিয়ের কথা বলে তাকে নিয়ে যায়। ময়নার বাড়ি আগবেতৈর, বীথির বাড়ি মহেলা। মহেলা আমাদেরও পূর্ব পুরুষের বাড়ি। ময়নাকে মহেলায় না নিয়ে মধুপুরে নিয়ে যায়। পথেই তাকে চেতনানাশক খাওয়ায়। তাতে সে কিছুটা মাতালের মতো হয়। মধুপুর সুপ্তি কম্পিউটার সেন্টারে নিয়ে তার নানা ধরনের অসংলগ্ন ছবি তোলে। তাতে সে ক্ষেপে যায়। নানাভাবে বাধা দেয়। কিন্তু পশুরা তার বাধাকে উপেক্ষা করে। এক পর্যায়ে আউশনারার বোকার বাইদে এসএম নুরুজ্জামান গেদার বাড়িতে নিয়ে যায়। দুশ্চরিত্র নুরুজ্জামান গেদারও ১০ বছরের দুটি যমজ মেয়ে আছে। অন্যদিকে দুষ্কর্মের প্রধান হোতা মধুপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান শহীদের আত্দীয় সুপ্তি কম্পিউটারের মালিক মনিরুজ্জামানের ৮ বছরের মেয়ে সুপ্তি, তার নামেই কম্পিউটার সেন্টার।

দোকানের কর্মচারী আবদুর রশীদ এই চারজন তাকে বোকার বাইদে নিয়ে উপর্যুপরি তিন দিন তিন রাত পাশবিক নির্যাতন করে। ১৫ বছরের একটি শিশুকে নির্যাতনের সময় তারা একবারও ভাবেনি গেদার ১০ বছরের দুটি এবং মনিরুজ্জামানের আট বছরের একটি মেয়ে আছে। তারাও কোনো দিন ধর্ষিতা হতে পারে। নুরুজ্জামানের বোকার বাইদে গিয়েই বীথি আক্তার ইভা দুজন পর পুরুষ নিয়ে অন্য ঘরে গিয়ে ডেকের আওয়াজ বাড়িয়ে দেয়, যাতে ময়নার আর্তচিৎকার কেউ শুনতে না পায়। ওই সময় তারা হয়তো ভাবেনি, যতই আওয়াজ বাড়াক ময়নার চিৎকার জগৎ স্রষ্টা অবশ্যই শুনতে পাবে, শুনেছেনও। তা না হলে মৃতপ্রায় ময়নাকে আউশনারা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে রসুলপুর রেললাইনের ওপর ফেলে গেলেও সে বাঁচল কী করে? স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, ১০ বছরের যমজ মেয়ের বাবা এসএম নুরুজ্জামান গেদার বাড়িতে ময়নাকে নিয়ে গেলেন, গেদার স্ত্রী যেখানে চলে গিয়েছিল সেখানে তিন দিনেও গেদার দুষ্কর্মের কথা সে কি কাউকে বলেছে? যদি না বলে থাকে তাহলে ধর্ষক নুরুজ্জামান গেদার স্ত্রীকেও কি আসামি করা অযৌক্তিক হবে?

যে গাড়িতে করে অচেতন নির্যাতিত ময়নাকে রসুলপুর রেললাইনের ওপর ফেলা হয়েছিল সেই গাড়ির চালক, গাড়িতে যারা ছিল তারা কি আসামি হবে না? তারা হত্যার জন্য, জেনে-শুনেই তো রেললাইনে ফেলেছিল। সঙ্গে সঙ্গে রেল এসে তাকে কেটে গেলে তো এমন বলা হতো না, তখন বলা হতো এটা একটা আত্দহত্যা। আল্লাহর দয়ায় ময়না বেঁচে গেছে। তাকে হাসপাতালে পেটের ব্যথার চিকিৎসা করে বাড়ি নিয়ে গেলে অবস্থা আরও খারাপ হলে ময়নার পিতা জানতে পারে তার মেয়ে ধর্ষিতা। সামাজিকতার ভয়ে পিতা তখন মেয়ের ছায়া না হয়ে জল্লাদ হয়েছিল। অর্ধমৃত উন্মাদ মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। নাড়ীছেঁড়া টানে মা-ও মেয়ের সঙ্গে বের হয়েছিল। দরিদ্র মানুষ, কোথায় ঠাঁই হবে তাদের? শেষমেশ পিতার বাড়ি চিনামুড়ায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। মেয়ের অবস্থা আরও খারাপ হলে আবার টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। দরিদ্র অসহায় মা তখনো ধর্ষণের কথা লুকাতে থাকে।

কিন্তু কিছু তরুণ সাংবাদিক, মানবাধিকার সমাজকর্মীর চোখে পড়ায় সত্য উদ্ঘাটিত হয়। ধর্ষিতা মেয়েটির করুণ কাহিনী জানাজানি হলে চারদিকে সাড়া পড়ে যায়। সবাই সহানুভূতি নিয়ে ছুটে আসে। মেয়ের ভাই রফিকুল আলম থানায় মামলা করে। অবস্থা আরও খারাপ দেখে নিজেরা চাঁদা তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি ওয়ার্ডে পাঠানো হয় ময়নাকে। খবর পেয়ে ২ জানুয়ারি গিয়েছিলাম মেয়েটিকে দেখতে। জীবনে দুই-চারজন নির্যাতিতা দেখেছি। কিন্তু ময়নাকে দেখে বেদনায় বুক ভেঙে খান খান হয়ে গেছে। সরকার বলেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েটির চিকিৎসা এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দেবে। দেখা যাক কী হয়! পরদিন ছুটে গিয়েছিলাম ময়নার বাড়ি আগবেতৈরে।

৬ ডিসেম্বরের ঘটনা, ১০ তারিখ মুমূর্ষু অবস্থায় ময়নাকে পাওয়া যায়। জানাজানি হয় তার দুই-চার দিন পর। প্রতিবেশীদের সহানুভূতি পায়নি এতদিন হতদরিদ্র ময়নারা। বরং কিছুটা গঞ্জনাই পেয়েছে। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় খবরটা প্রচারিত হলে চারদিকে তার প্রতি সহানুভূতি দেখা দিলে গ্রামের মানুষও দরদী হয়ে ওঠে। রেললাইনের পূর্ব পাড়ে ওদের বাড়ি। আমরা যাওয়ার আগে বাড়িটি খা খা করছিল। কিন্তু আমরা যাওয়ায় লোকজনে ভরে গিয়েছিল। কথাবার্তা বলে মনে হলো তারা এখন বুঝতে পেরেছে দোষ ময়নার নয়, দোষ সমাজের। তাই ময়নার পাশে তারা দাঁড়িয়েছে। মিছিল হচ্ছে, মিটিং হচ্ছে, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। ভারতে মেডিকেল ছাত্রী দামিনীর ধর্ষণের বিচার হবে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মধুপুরে ধর্ষিতা ময়নার ধর্ষকদের উপযুক্ত বিচার নিয়ে কেন যেন এখনো সন্দেহ আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. শাহজাহান আলী, এসএম নুরুজ্জামান গেদা, হারুনুর রশিদ, মনিরুজ্জামান মনির ও ঘটনার মূল নায়িকা বীথি আক্তার ইভাকে গ্রেফতার করে ধর্ষকদের তিন দিন ও ইভাকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তাদের রিমান্ড ইতোমধ্যেই শেষ।

এত আলোচিত ঘটনায়ও পুলিশ আর রিমান্ড চায়নি। কেন চাবে, সরকারি এপিপি আসামি পক্ষ নিয়েছে। যাতে তার এপিপি পদই থাকে না। কিন্তু সে বহাল তবিয়তে আছে। কোনো কোনো সাংবাদিক আসামি পক্ষের সাক্ষাৎকার প্রচার করছে, ভিকটিমের নয়। মানে আলামত শুরু হয়ে গেছে। এই অল্প সময়ে বীথি আক্তার ইভা সম্পর্কে যা শুনেছি কহতব্য নয়। তার সর্বত্র অবাধ যাতায়াত। তাকে নিয়ে বেশি নাড়াচাড়া করলে নাকি থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়তে পারে। এমনকি থানা পুলিশও ফেঁসে যেতে পারে। তাই রিমান্ড একদিন। জানি না নারী প্রধানমন্ত্রীর আমলে নারী নির্যাতনের কতটা কি বিচার হবে। তবে এই হতাশার জমানায়ও ভীষণ আশান্বিত হয়েছি সৎ যুব সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের দেখে। টাঙ্গাইলের মানবাধিকার কমিশনের জেলা সমন্বয়কারী সাংবাদিক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদকে ফোন করতেই শোনলাম সে মধুপুরে বোকার বাইদের ঘটনাস্থলে গেছে। সে বলল, নুরুজ্জামান গেদার বাড়ির একটু দূরে দুটি বাড়ি আছে। গেদা একটি ফ্লেঙ্ িলোডের দোকান করে। মানুষ হিসেবে ভালো নয়, আগাগোড়াই চরিত্রহীন। সুপ্তি কম্পিউটার সেন্টারের সঙ্গে তার আগে থেকেই যোগাযোগ আছে।

সমাজের উচ্চস্তরের নির্মম পতন দেখে কিছুটা হলেও যখন হতোদ্যম হয়ে পড়েছিলাম, তখন একটি নির্যাতিতা মেয়েকে নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে মরহুম এনামুল হক খানের সুপুত্র এহসানুল হক খান শাহীনের গভীর রাতে মেডিকেলে পেঁৗছে দেওয়া, করটিয়া সাদৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়ারত হোসেন জুয়েল ও মনিরুজ্জামান মনিরের রাত-দিন ছোটাছুটি, লোককথার রতন সিদ্দিকীর একের পর এক খবর পরিবেশন আমাকে যারপরনাই উৎসাহিত করেছে। মনে হয়েছে, এসব তরুণ মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, সমাজসেবকরা থাকতে যে দেশ আমি রক্ত-ঘামে স্বাধীন করেছি, সে দেশের চরম সর্বনাশ কেউ করতে পারবে না। গত রবিবার ১২টায় ময়নাকে দেখতে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি ওয়ার্ডে গিয়েছিলাম। মেয়েটির ভারসাম্যতা কিছুটা ফিরেছে। প্রায় ২০ দিন পর সামান্য আহার করেছে। আল্লাহতায়ালা সুরা মায়িদায় বলেছেন, ’কেউ যদি অকারণ অহেতুক কাউকে হত্যা করে, সে যেন মানব জাহানকে হত্যা করল। আর কেউ যদি মায়া-মমতা, সেবা-যত্ন দিয়ে একটি জীবনকে রক্ষা করে, তাহলে সে সমগ্র মানব জাহানকে রক্ষা করল।’ তার মাথায় হাত রেখে বলে এসেছি, ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি, তুমি এখন একা নও, তুমিই এখন বাংলাদেশ, দেশের মেয়ে, দেশের সম্পদ।

লেখক : রাজনীতিক
উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন