নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > উপসম্পাদকীয় > কাদের সিদ্দিকী > প্রধানমন্ত্রী হত্যার ষড়যন্ত্র

প্রধানমন্ত্রী হত্যার ষড়যন্ত্র

Tuesday 20 September 2011, কাদের সিদ্দিকী Print

’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার আগে যেমন শুনতাম, ইদানীং চারদিকে কেমন যেন তেমন লাগামহীন কথাবার্তা শুনছি। তখন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। ওসবের কিছু প্রতিকারের যেমন সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা ছিল, এখন একেবারে বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষমতা যা-ই থাকুক বা না থাকুক, প্রতিকারের তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই। কিন্তু কেন যেন মনে হয় হঠাত্ করে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ায় আমার জীবনে এবং সমগ্র সিদ্দিকী পরিবারে যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে, এখন আগে-পিছে না থাকার পরও নেতারা যেমন বলছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে, বুলেট তার পিছে পিছে ছুটছে। তাই সত্যিই যদি তিনি নিহত হন, কেন যেন মন বলছে, শেখ পরিবার যতটা বিপদগ্রস্ত হবে তার চাইতে আমি এবং আমার পরিবার অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে যা-ই হোক, আল্লাহর যা ইচ্ছা তা-ই হবে। প্রতিকারের যখন কোন পথ নেই, তখন আমি কী-ইবা করতে পারি! প্রতিদিনই একটার পর একটা উত্তেজনাকর ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। এমনিই চারদিকে হিংসা-বিদ্বেষ, তার ওপর মাঝে মাঝে ঘি ঢেলে হিংসা-বিদ্বেষের আগুন শতগুণ বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকারের যেখানে জাতীয় অবস্থা সৃষ্টির অগ্রদূত হওয়ার কথা, সেখানে তাদের একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্তে অস্থিতি এবং বিদ্বেষের আগুন দ্বিগুণ হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দেশ এখন দুটি স্রোতধারায় বিভক্ত। একটি আওয়ামী, অন্যটি জাতীয়তাবাদী বিএনপির স্রোতধারা। গ্রামেগঞ্জে এমন অবস্থা বিএনপির মিলাদে, ইফতার পার্টিতে আওয়ামী লীগের লোকেরা যায় না। আওয়ামী লীগের জানাজায় বিএনপির লোকেরা শরিক হয় না। হলেও একেবারে কম। যদিও একেবারে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ওরকম নয়। আওয়ামী লীগের ঝানু ঝানু নেতার পুত্র-কন্যার বিএনপি নেতার পুত্র-কন্যার সঙ্গে বিয়ে-শাদী অহরহই হচ্ছে।

জামায়াত অথবা রাজাকার-আলবদর নিয়ে আলোচনা হলেও অনেক বড় বড় নেতা স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদর জামায়াতী নেতাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করেছে এবং করছে। বাঁশের চাইতে যেমন কঞ্চি শক্ত, ঠিক তেমনি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপারটি খুবই কঠিন। সেখানে আওয়ামী এবং বিএনপির মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ অনেক বেশি। এমন চললে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্রামে মসজিদ-মন্দির ভাগ হয়ে যাবে। কবরস্থান, শ্মশান ভাগ হবে। মওলানা-মুন্সীও ভাগ হবে। আওয়ামী মসজিদ, আওয়ামী মওলানা, আওয়ামী জানাজা, আওয়ামী কবর, আওয়ামী শ্মশান তেমনি বিএনপি মসজিদ, মওলানা, জানাজা, কবর, শ্মশান সবই হবে ভিন্ন ভিন্ন। এটা যে একটা জাতির জন্য কত বড় অশনি সঙ্কেত, এটা সময় থাকতে বুঝতে না পারলে ভয়াবহ পরিণতির জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। এই তো গত রোববার আচমকাই ৬.৮ মাত্রার দুই মিনিটের ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্প শুরু হওয়ার এক মুহূর্ত আগেও কেউ বুঝতে পারেনি। ওটাই যদি ৭.৮ মাত্রার হতো আজ আমরা অনেকেই থাকতাম না, পত্রিকা ছাপা হতো না। সারাদেশে কয়েক কোটি মানুষ নিহত হতো। তাই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ায় অত বেশি অহঙ্কার ভালো না। পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসে পঁচিশ বছর থাকার চিন্তা করা উচিত না। পঁচিশ-পঞ্চাশ বা শতবছরের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা করা যেতে পারে। সেই পরিকল্পনা সার্বিক হলে সবাই তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক ক্ষেত্রে সেটাই উচিত। আমাকেই করতে হবে এরকম চিন্তা ভালো না। জাতির অনুমতি না নিয়ে সবার চিন্তার বিপরীত কোনো কর্মকাণ্ড করতে চাইলে আমি না থাকলে বা আমরা না থাকলে অন্যেরা তো তা বদলে ফেলবেই। তাই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে যতটা সম্ভব বিরোধীদের মতামত নেয়া উচিত। তাহলে ধারাবাহিকতা রক্ষা পাবে।

আমি বড় বেশি চিন্তিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে তার সরকারের মন্ত্রী ও আমলা-ফইলাদের নানা সময়ের নানা বক্তব্য নিয়ে। কেউ বলছেন, বুলেট তাকে খুঁজে ফিরছে, কেউ বলছেন প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। খোদা না করুন সত্যিই যদি আকস্মিক তিনি নিহত হন, তাহলে তারা—যারা ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন, তারা কি আসামি হবেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন ষড়যন্ত্রের কথা, আওয়ামী লীগের মুখপাত্র স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা জানেন। কারা ষড়যন্ত্র করছে, জানার পরও মন্ত্রী হিসেবে ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলা হবে, নাকি ষড়যন্ত্র ফেরাতে ব্যর্থ বলা হবে? ’৭৫ সালে তো এমনই হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে, যারা ষড়যন্ত্র করেছে, ষড়যন্ত্র ফেরাতে যারা ব্যর্থ হয়েছে—তাদের কারোরই বিচার হয়নি। ফারুক, রশিদ, ডালিমরাই শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল কারিগর নয়। সেনাবাহিনীর কয়েকজন প্রত্যক্ষভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। শুধু সরাসরি হত্যায় অংশ নেয়া কয়েকজনের বিচার হয়েছে, বিচারের আসামি হয়েছে এবং মাত্র কয়েকজনের ফাঁসিটাসি দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার অভিযানে ৩৮-৩৯টি ট্যাংক বেরিয়েছিল। সেই ট্যাংকচালকদের কী হয়েছে? ট্যাংকের গানারদের কী হয়েছে? শ’দুই-আড়াই নানা ধরনের সৈন্য অংশ নিয়েছিল। তাদের কী হয়েছে? যেখান থেকে সৈন্যরা বেরিয়ে এসেছিল, তাদের ঊর্ধ্বতন অফিসারদের কী করা হয়েছে? বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর উত্তম খালেদ মোশাররফ এবং ব্রিগেডিয়ার সাফায়াত জামিলের ডিভিশনের অধীন ছিল এরা। নাইন ডিভ-এর অধীনস্থরা এই যে বিদ্রোহ করেছিল বা ষড়যন্ত্র করে প্রেসিডেন্টকে হত্যা করলো, গোয়েন্দা বাহিনী কি এ খবর জানতো? জানলে তারা কেন প্রতিকার করেনি? আর যদি না জেনে থাকে, তাহলে এত বড় ঘটনা না জানার ব্যর্থতার কেন বিচার হলো না? সেনাবাহিনী তো শুধু জিয়াউর রহমানকেই নিয়ে নয়। জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাবাহিনী উপ-প্রধান। উপ-প্রধান যদি ওই খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তাহলে সেনাপ্রধান কী করলেন? তিনি কি আঙ্গুল চুষছিলেন? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ সেনাপ্রধান সফিউল্লাহকে ফোন করেছিলেন।

তিনি তাকে উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তস্করের মতো বলেছিলেন, ‘আপনি চেষ্টা করে দেখেন পালিয়ে যেতে পারেন কিনা।’ যুদ্ধ না করে পালিয়ে বেড়ানো যাদের স্বভাব, তারাই অমন বলতে পারেন। স্বাধীনতার পর জেনারেল সফিউল্লাহ সেনাবাহিনীর প্রধান হতে পারেন; কিন্তু বীর পুরুষ ছিলেন না। তিনি জয়দেবপুর থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তার একটা যুদ্ধের রেকর্ডও আছে কিনা আমার জানা নেই। শুধু তারই জন্য তার দলের, বিশেষ করে ‘এস’ ফোর্সের অন্য যোদ্ধা ও অফিসাররা বিরাট অবদান রাখতে পারেননি। কই ’৭৫-এর ব্যর্থতার জন্য সেনাপ্রধান হিসেবে সফিউল্লাহর তো কোনো বিচার-আচার হলো না? বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী জিয়াউর রহমান যদি ক্ষমতার মধ্যমণি না হতেন, জিয়াউর রহমানের জায়গায় যদি সফিউল্লাহ আসতেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসতেন, তাহলে আজকাল সফিউল্লাহকেই বঙ্গবন্ধুর খুনি বলা হতো, জিয়াউর রহমানকে নয়। ইদানীং বঙ্গবন্ধুর শহীদ পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানফেরত কর্নেল জামিলের ছবি দেখি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের অনেকেই এমনকি আমার বোন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রেহানা কর্নেল জামিলকে বড় বেশি প্রভুভক্ত বা অনুগত বলে মনে করেন। তাদের ধারণা, তাদের পিতার জন্য জনাব জামিল বুকের রক্ত দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেছে। কোনো বাড়ির হেফাজতের দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি বাড়ি হেফাজত করতে না পেরে চোর-ডাকাতের হাতে মারা পড়ে প্রভুভক্তির জন্য যদি পুরস্কার পায়, তাহলে এখানে বলার কী আছে? হ্যাঁ, যদি এমন হতো বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে মাত্র জনাব জামিল ছিলেন, তিনি দুর্বল, আক্রমণকারীরা ছিল সবল, সংখ্যায় অনেক বেশি, তিনি বাধা দিয়েও রুখতে পারেননি, বঙ্গবন্ধুর বডিগার্ড মুন্সীগঞ্জের এসপি পদপ্রাপ্ত মহিউদ্দিনের মতো পালিয়ে যাননি, জীবন দিয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন। নিশ্চয়ই তখন তা প্রশংসা করা যেত এবং তিনি শৌর্য-বীর্যের প্রতীক হিসেবে সম্মান পাওয়ার অধিকারী হতেন।

পাকিস্তানফেরত কর্নেল জামিলের বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়। বড় দুঃখে প্রিয়তমা ভগ্নী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে বাধ্য হয়েই বিষয়গুলো তুলে ধরছি। কারণ প্রতিদিন শুনছি আপনাকে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা হচ্ছে। আর সত্যিই যদি সেটা হয়, তাহলে তো আমার জীবনও শেষ। আমার প্রাণপাখি কোথায় আছে, তা তো মন্দাদরীই জানে। বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন-যৌবন ঝরালাম, আজ আমি হলাম আপনাদের কাছে বড় শত্রু আর যারা বঙ্গবন্ধুকে ছলে বলে কৌশলে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশের এই সর্বনাশ করলেন, তারা অনেকেই হয়ে গেলেন আপনার বড় প্রিয়। আপনার পরিবারের শহীদদের পাশে বঙ্গবন্ধুর পাশে ব্যর্থ জামিলের ছবি টাঙিয়ে রাখেন আর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার ছবি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং জাতীয় জাদুঘর থেকে নামিয়ে ফেলেন। আমার ছবি নামাতে গিয়ে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবিও তো নামাতে হয়। এমন দুর্ভাগ্য যে, আমার জন্য কোনো কোনো জায়গায় বাংলাদেশের স্থপতি আপনার পিতাও ঠাঁই পান না। এইমাত্র কিছুদিন আগে আপনাদের টাঙ্গাইলের এক নেতা রাজাকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি আমার আর বঙ্গবন্ধুর জোড়া ছবি রাস্তায় পায়ে মাড়িয়েছে। অপরাধ, তিনি আওয়ামী লীগ করেন আমি করি না। আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন, রাজাকার হলে যদি যুদ্ধাপরাধী হয় তাহলে আশরাফুজ্জামান স্মৃতি যে রাজাকারে ভর্তি হয়েছিল, তার হাতের লেখা চিঠি এখনও আমার কাছে আছে। ওটা তো জাদুঘরে দেবোই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইলে আপনার হাতেও দিতে পারি। এই ক’দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার চারণভূমি সখীপুর। সেই সখীপুরের কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দরজানীর একমাত্র রাজাকার শামসুল হক পান্না সখীপুর আওয়ামী লীগের এমপি শওকত মোমেন শাহজাহানের ভোট-ডাকাতির বদৌলতে চেয়ারম্যান হয়েছে। ১৯৯৯-এ সখীপুর-বাসাইল উপনির্বাচনে ভোট-ডাকাতি করে নিজেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার এক রাজাকারকে চেয়ারম্যান বানাতে আবার সখীপুরে ভোট-ডাকাতির বিশ্বরেকর্ড করেছে।

১৯৭৫ সালে ডিজিএফআইর প্রধান কর্নেল জামিলকে নিয়ে কথা হচ্ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভদ্রলোক পাকিস্তানে ছিলেন। আসলে স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধা নয়—এমন ব্যক্তির কোনো পার্থক্য ছিল না। হয়তো রাজাকার-আলবদরদের ওই সময় অতটা গুরুত্ব না দিলেও পূর্ব পাকিস্তানের সব বেসরকারি অফিসার এবং পাকিস্তানে বন্দি সেনাবাহিনীর সদস্যরা খুবই গুরুত্ব পেয়েছে। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের চাইতেও বেশি। অনেকের মনোভাব ছিল—হায় হায়, আমাদের সন্তান-সন্ততিরা পাকিস্তানে বন্দি ছিল, কত কষ্ট করেছে, তাদের ডাবল বেতন দাও, বড় পদ দাও। হায় হায়, নয় মাসে তারা কত কষ্ট করেছে! কোনো কোনো সময় মনে হতো এদেশে যারা ছিল ঝাড়-জঙ্গলে, যুদ্ধের ময়দানে—তারা যেন খুব আরাম করেছে, কত কিছু বিসর্জন দিয়ে কত কষ্ট করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপস করে পাকিস্তান থেকে প্রায় তিন সাড়ে তিন ভাগ আটকেপড়া বাঙালিকে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু সরকার দেশে এনেছিলেন। দেশে এনে দুই মাসের অগ্রিম বেতন দিয়ে ও ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছিলেন। ছুটি শেষে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাজ না থাকলেও চাকরি এবং বেতন দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর সেই পাকিস্তানফেরতরা বঙ্গবন্ধুর জন্য একবার ইন্নালিল্লাহ পড়েছিল কিনা, নাকি আপদটা মরেছে ভালো হয়েছে বলে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন—ঠিক বলতে পারব না। বর্তমান জাতীয় পার্টির মহান নেতা জনাব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে ছিলেন। তিনি পাকিস্তান কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের বাসিন্দাদের শৃঙ্খলাভঙ্গের বিচার-আচারের চেয়ারম্যান ছিলেন। যুদ্ধের শুরুতে মার্চ-এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতেই ছিলেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধে যোগদান না করে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। মাঝেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে একবার কয়েকদিনের জন্য ছুটিতে রংপুরে এসেছিলেন। তিনিও যখন পাকিস্তান থেকে ফেরত আসেন, তখন তাকেও প্রমোশন দেয়া হয়েছিল এবং পরের কথা তো সবাই জানেন। সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পাকিস্তানে থেকেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কর্নেল জামিলও তেমনি ভাগ্যবান। পাকিস্তানে থেকেও বাংলাদেশের ডিজিএফআইর প্রধান হয়েছিলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা অফিসার সে সময় ওই পদ পাননি। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ করার চাইতে পাকিস্তানে থাকার যোগ্যতার মূল্য ছিল অনেক বেশি।
[সূত্রঃ আমার দেশ, ২০/০৯/১১]

Keywords: