নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > উপসম্পাদকীয় > কাদের সিদ্দিকী > মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এত বিক্ষুব্ধ কেন?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এত বিক্ষুব্ধ কেন?

Tuesday 28 February 2012, কাদের সিদ্দিকী Print

ইদানীং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য-বক্তব্য সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলেছে। সব কাজের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া আছে, সব কথারই ভালো-মন্দ আছে। শুধু আমার দেশ কেন সারা পৃথিবীর অবস্থাই তেমন ভালো নয়। সর্বত্রই কেমন যেন একটা অস্থিরতা। গত বছর মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেনসহ বেশ কয়েকটি দেশে দীর্ঘদিনের সরকারগুলোর করুণভাবে পতন হয়েছে। সিরিয়ার আসাদের অবস্থাও টলটলায়মান। এ রকম অবস্থায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশাব্যঞ্জক কথা বলবেন, একটু রয়ে-সয়ে বলবেন, এটাই আমজনতার প্রত্যাশা। আমার প্রিয় ভগি্ন এমনিতেই হালকাভাবে কথা বলেন। তার কথা অনেকেই তেমন গা করেন না। তারপরও তিনি তো প্রধানমন্ত্রী। তার কথার গুরুত্ব অনেক। সাম্প্রতিককালে যেসব কথা তিনি বলেছেন তার ভয়াবহতা বিবেচনা বা চিন্তা করলে গা শিউরে ওঠে। গত পর্বে লিখেছিলাম, কোকিলের বাসায় কাকের বাচ্চাও নিরাপদ কিন্তু নিজের ঘরে স্বামী-স্ত্রীও নিরাপদ নয়। জগৎ সৃষ্টির পর থেকেই খুন-খারাবি আছে কিন্তু তারও একটা সহনীয়তা থাকা প্রয়োজন। বাবা আদম আর মা হাওয়ার সন্তান হাবিল-কাবিল। হাবিলকে হত্যা করে দিশাহারা কাবিল যখন ছটফট করছিল তখন এক কাক আরেক কাককে হত্যা করে বালু সরিয়ে লুকিয়ে রেখেছিল। তাই দেখে কাবিল তা অনুসরণ করেছিল। সে থেকেই তো খুন-খারাবির শুরু। তবে একেবারে শোয়ার ঘরে স্বামী-স্ত্রী একত্রে খুন হলে সরকার তার কোনো দায় নেবে না, এটা তো সুশাসনের পর্যায়ে পড়ে না। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন বলেন এ ক্ষেত্রেও বলেছিলেন, ’৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত খুনিদের ধরে বিচারের হাতে সোপর্দ করা হবে।’ সঙ্গে এও বলেছিলেন, স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওই ঘটনাটি সার্বক্ষণিক নজরে রাখছেন। এত দাপট দেখে তখনই মনে হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টা তো দূরের কথা, হত্যার প্রকৃত রহস্য ৪৮ দিন কিংবা ৪৮ মাসেও উদ্ঘাটন হয় কিনা বলা মুশকিল। হ্যাঁ, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো জজ মিয়া সাজাতে ৪৮ মিনিটেরও প্রয়োজন নেই। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাগর-রুনি দম্পতির ঘটনাটি নিবিড়ভাবে নজরে রাখছিলেন, তাই ক’দিন আগে মনে হয় বড় বিক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বেশ কয়েকটি মারাত্দক মন্তব্য করেছেন। তার কণ্ঠেও বেশ ক্ষোভের ঝাঁজ ছিল। এসব ঝাঁজের প্রধান উপাদান ছিল সাংবাদিকরা বড় বেশি দাপাদাপি করে হত্যার আলামত নষ্ট করে ফেলেছে। ছোট্ট ছেলে মেঘকে নানারকম প্রশ্ন করে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এলোমেলো করে দিয়েছে। ওভাবে সাংবাদিকদের ছোট বাচ্চাকে নানা কথা জিজ্ঞাসা করা ঠিক হয়নি। ওটা সাংবাদিকদের কাজ নয়, গোয়েন্দাদের কাজ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শতভাগ একমত হতে পারলে খুশিই হতাম। এখন মিডিয়ার জমানা। আর মিডিয়ার দুজন কর্মী মারা গেছেন তাকে নিয়ে সাধারণ হত্যার চেয়ে তারা একটু বেশি ব্যাকুল হবেন, এখানে তো দোষের কিছু দেখছি না। আর সংবাদকর্মীরা কি আলামতইবা নষ্ট করতে পারেন? নানা কোণ থেকে ছবি তুলেছেন, নানাভাবে দেখে সংবাদপত্রে রিপোর্ট করেছেন। এতে আর কত আলামত নষ্ট বা তদন্তের ব্যাঘাত ঘটতে পারে? আর সাগর-রুনির একমাত্র শিশুসন্তান তাকে অনেক প্রশ্ন করা নিশ্চয়ই কষ্টের। কিন্তু গোয়েন্দাদের চেয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন খারাপ বা কঠিন হতে যাবে কেন? সাংবাদিকদের খবর সংগ্রহ করা নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে কি করে? নিশ্চয়ই স্বীকার করি, দুই-চারজন সাংবাদিক তাদের সীমা বুঝতে না পেরে হয়তো কিছুটা বাড়াবাড়ি করে। কিন্তু আবার এও তো স্বীকার করতেই হবে, এত মিডিয়া না থাকলে বর্তমান আইনশৃঙ্খলার যে অবস্থা এর চেয়ে দশগুণ বেশি মানুষ জীবন হারালে কেউ সংযত থাকত না। কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারেন, পত্রিকায় ছাপা না হলে বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের নাতি রাকিব হাসানের ওপর পুলিশি নির্যাতনের কোনো প্রতিকার হতো? মহামান্য হাইকোর্টে মামলা হয়েছে, শুনলাম দু-একজন সাসপেন্ড, দু-একজনকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বদলি কি কোনো অপরাধের শাস্তি? তাই মিডিয়ার ওপর খেপে লাভ কি? সাধারণত ভাবা হয় রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্যের কারণে রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল জনগণের প্রকৃত পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। ছিটেফোঁটা হলেও সে দায়িত্ব মিডিয়াগুলো পালন করে চলেছে। এ জন্য তারা দেশবাসীর ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও তিরস্কার না করে তাদের পুরস্কার দেওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু কেন যেন তা হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেশি ওঠাবসার সুযোগ আমার হয়নি। তারপরও বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বহু সময় খুবই কাছ থেকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছি। তার দরদি মনের বিষয়টি উপলব্ধি করেছি। ইদানীং তার কথাবার্তা শুনে সেই দরদি মনোভাবের লেশমাত্র যখন দেখি না, তখন আমার মনে হয় বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি কোনো ভিন্ন মানুষ? তা না হলে এতসব অসহিষ্ণু মন্তব্য কেন? যা তিনি ইদানীং বলেন, তা কি তার কথা? নাকি যারা রাষ্ট্রের কলকাঠি নাড়ে তাদের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়! কোনটা সত্য? তা না হলে হঠাৎ করেই কেন এমন বলতে যাবেন, ’সরকার কারও বেডরুম পাহারা দিতে পারবে না।’ ঠিক আছে বেডরুম পাহারা দিতে না পারলেন, বাড়িটা তো পাহারা দিতে পারবেন! দেশটাকে তো পাহারা দেবেন? নাকি এর কোনোটিই করতে পারবেন না? যদি না পারেন তাহলে সরকারি দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন কেন? কোনো সরকার তো দেশের মালিক নয়, সরকার দেশের সেবক। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধান সেবক। সেই অর্থে তো নিশ্চয়ই পাহারাদার।

সীমান্তে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, সরকারের মন্ত্রীরা নির্বিকার। কেউ কেউ বলছে, আগেও সীমান্তে লোক মরেছে, এখনো মরছে, ভবিষ্যতেও মরবে। এ নিয়ে সরকার চিন্তিত নয়। তাহলে সরকার কি নিয়ে চিন্তিত? কমিশন খাওয়া নিয়ে? দুর্নীতি করা নিয়ে? মানুষের সহ্যের সীমা শেষ হয়ে যেতে চলেছে। দয়া করে দেয়ালের লিখন পড়ুন। ওতেই কপাল লিখন খুঁজে পাবেন। সরকার কারও বেডরুম পাহারা দিতে পারবে না। সরকারপ্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে দেশবাসী যতটা হতাশ হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মনোবল নষ্ট হয়েছে আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থার। আর লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে দুষ্কৃতকারীদের। যারা খুন-খারাবি করে তারা ধরে নিয়েছে সরকার ঘরের দরজা পর্যন্ত, ভেতরে নয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় সততা নিয়ে দেশের সেবা করার চেষ্টা করেছেন। তিনি ’৭৫-এ দেশে জেলা গভর্নর পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন। সেই সংস্কারের আমিও একজন ছিলাম। টাঙ্গাইল পুলিশ প্যারেড ময়দানের সংবর্ধনা সভায় বলেছিলাম, ’প্রিয় টাঙ্গাইলবাসী, আপনাদের জন্য আর কিছু করতে না পারলেও সারা জেলার মানুষ যাতে ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে পারেন সে ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ করব।’ কথাটা মানুষ বিশ্বাস করেছিল। কারণ মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস মুক্ত এলাকায় চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি ছিল সর্বকালের নিম্ন পর্যায়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি তো আপনার সরকারের ক্ষতি চান না। আপনার প্রাণপণ চেষ্টা হবে সরকারকে টিকিয়ে রাখা, জনপ্রিয় করা। আপনি বেডরুম পাহারা না দিয়ে সে কথাটি আবার তস্করদের এভাবে জানিয়ে দিলে আপনার সরকারকে তো টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে এ রকম দায়িত্বহীন কথা বলে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন কেন? আপনার মন্তব্যে সাধারণ মানুষের মনোবল যেভাবে নষ্ট হয়েছে, তস্করদের মনোবল তেমন শতগুণ বেড়েছে। এখন তা সামাল দেবেন কি করে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা মানি, আপনার মন্ত্রিসভায় আপনিই একমাত্র মন্ত্রী, সবকিছু আপনাকে করতে হয়। আপনার তো না জানার কথা নয়, দশের লাঠি একের বোঝা। সব কাজ আপনাকেই যদি করতে হয় তাহলে জনগণের টাকায় এত বড় মন্ত্রিসভার, উপদেষ্টাদের প্রয়োজন কি? কেউ যদি কোনো কাজ না করে বা করতে না পারে তাহলে আপনি একাই করুন। যতদিন বাহুবলে বাঙালিদের দমিয়ে রাখতে পারবেন ততদিন থাকবেন। তারপর একদিন তখতে তাউস ভেঙে খান খান হয়ে যাবে। যেভাবে রাষ্ট্র চলছে একে সুস্থ গণতন্ত্র বলে না।

এ ক’দিন গ্রামে ছিলাম। আপনার মন্তব্যে মানুষ বড় বিক্ষুব্ধ। আপনি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যদিও চাটুকাররা হয়তো বলবে, আপনি জনপ্রিয়তার শৃঙ্গে আছেন, হিমালয়ের কাঞ্জনজঙ্গাও আপনার পদতলে লুটোপুটি খায়। কিন্তু আসল সত্য তা নয়। ২০১১-এর গোড়ার দিকে বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আপনি সে সময়ই মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে সতর্ক করে দিতে পারতেন। তাতে সৈয়দ আবুল হোসেনেরও ভালো হতো, প্রবীণ নেতারাও খুশি হতেন, দেশেরও মঙ্গল হতো। তা না করে আপনি সৈয়দ আবুল হোসেনের পক্ষ নিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারলেন না। বছর শেষে তাকে তথ্য ও যোগাযোগে স্থানান্তরিত করে একজন পা থেকে মাথা পর্যন্ত রাজনীতিক ওবায়দুল কাদেরকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলেন। আপনার বয়স্ক অর্থমন্ত্রী আবুল হোসেনকে যেমন সময়ের টাকা সময়ে না দিয়ে পথে বসিয়েছেন, নতুন যোগাযোগমন্ত্রীকেও পথে বসাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। গৌরি সেনের মাল যার হাতে, সে ঠিক তো সব ঠিক। কর্মজীবনে প্রায় সব ক্ষেত্রে সফল সৈয়দ আবুল হোসেন সবার চোখে পড়েছিলেন, তাই অত আলোচনা হয়েছে। তা না হলে বিশ্বব্যাংক তার নামে দুর্নীতির যে অভিযোগ এনেছে সেই ঘটনাই এখন পর্যন্ত ঘটেনি। তাকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরই অল্পবিস্তর বিশ্বব্যাংকও তা স্বীকার করেছে। অন্যান্য সংস্থাও বলেছে, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। তাহলে সকাল ৮টায় ঘুম থেকে উঠে যে মন্ত্রী দফতরে যেতেন, রাতদিন কাজ করতেন, যার জন্য তার পুরস্কার পাওয়ার কথা, সেখানে পুরস্কারের বদলে তিরস্কার পেলেন কেন? সত্য কথা বলতে কি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অতি বিশ্বস্তরাও মুক্ত বিহঙ্গের মতো সবকিছু উজাড় করে কাজ করতে পারছেন না। তা যদি পারতেন তাহলে ব্যর্থতার শাস্তি ও ভালো কাজের পুরস্কার দুটোই পেতেন। যারা আওয়ামী লীগের জন্য জান-কোরবান করেছেন তারা একেবারে পেছনে গুরুত্বহীন, যারা জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও অন্যদের সঙ্গে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে শরিক ছিলেন তারা এখন পদ ও প্রদীপের আলোয় জ্বলজ্বলে। আর বামপন্থিদের কথা তো বলারই নয়। কৃষিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, গৃহায়নমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী; মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় ছিলেন, এখনো আছেন। যদিও এখানে দোষের কিছু নেই। কারণ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও এখন জননেত্রী শেখ হাসিনার মহাজোটে মহা গৌরবে আছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইদানীং বিশ্ব রেকর্ড করার মতো একটি মন্তব্য করেছেন, তা হলো_ গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে যাকে অপদস্ত করে সরানো হয়েছে, যার নোবেল পুরস্কার বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্তু লারমার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চেয়েছিলেন, সেই বাংলার একমাত্র সন্তান নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করার জন্য সুপারিশ। মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে বিশ্বব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ে একটি ছোট প্রতিষ্ঠান, তাই তার সুপারিশে অধ্যাপক ইউনূসকে তার প্রেসিডেন্ট করা চলে। হ্যাঁ, এটা যদি তার ইচ্ছা হতো, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করবেন, অধ্যাপক ইউনূস রাজি থাকলে তা তিনি পারতেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী করতে চাইলে তা তিনি পারতেন। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে হুট করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করা_ এটা সম্ভব নয়। এটা তিনি নিজেও জানেন। তাহলে কি এই বরেণ্য বর্ষীয়ান মানুষটার সঙ্গে এটা একটা মশকারা? বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের প্যানেল বহু বছর আগে থেকেই তৈরি থাকে। নাম বিশ্বব্যাংক হলেও সব দেশের নাগরিক বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। তাহলে এমন কথা তিনি কেন বললেন? শুধু কি অধ্যাপক ইউনূসকে ছোট করতে? নাকি অসাবধানতাবশত নিজেকেই তিনি ছোট করলেন! সেদিন অধ্যাপক ইউনূসের এক সাক্ষাৎকার পড়ে বিস্মিত হলাম। পৃথিবীর যে কোনো দেশের সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের তেমন কোনো বেগ পেতে হয় না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তার ব্যক্তিগত বন্ধু। সেই তিনিই নাকি বছরের পর বছর আপ্রাণ চেষ্টা করেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি। এটা করে তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন নাগরিককে তার নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। এ তো একেবারে শপথ নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন। সত্যিই একেই বলে দেশের ফকির দেশে ভিক্ষা পায় না...।

লেখক : রাজনীতিক
[সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৮/০২/১২]

Keywords: