নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > প্রেস রিভিউ > লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং

লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং

Saturday 20 June 2020, Anandabazar Print

বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা নতুন নয় চিনের। লাদাখে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত-সংঘর্ষে উত্তাপ ছড়ানোর পরে ফের নতুন উদ্যমে সে কাজে নেমেছে বেজিং। শুক্রবার বাংলাদেশের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে তারা। তাতে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া অতিরিক্ত ৫১৬১টি পণ্যে শুল্ক না-নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে চিনে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯৭ শতাংশকেই শুল্কমুক্তির সুবিধা দিল বেজিং। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে নতুন সিদ্ধান্তটি কার্যকর হচ্ছে।
বাংলাদেশ একমাত্র প্রতিবেশী দেশ, নানা টানাপড়েন সত্ত্বেও যাদের সঙ্গে ভারতের একটা পরীক্ষিত সুসম্পর্ক রয়েছে। দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা-মলদ্বীপ থেকে উত্তরে নেপাল-ভুটান, কারও সঙ্গেই আর আগের উষ্ণ সম্পর্ক নেই ভারতের। কূটনীতিকরা বলছেন, এই পরিস্থিতির পিছনে চিনের হাত স্পষ্ট। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বিষিয়ে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতকে একঘরে করে ফেলার কৌশল বাস্তবািয়ত করছে বেজিং। কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ তাদের নিশানা। এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন তারা লগ্নি করেছে, দেশের গ্রামীণ বাজারগুলিতেও পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হচ্ছে চিনা বণিকেরা।
ঢাকার প্রধান শেয়ার বাজারটিও তাদের কব্জায়।

আগে থেকেই এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট (আপটা)-র আওতায় ৩০৯৫টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করে বাংলাদেশ। এ বার সব মিলিয়ে ৮২৫৬ পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিল চিন। এ দিন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এই সুবিধা দিল বেজিং।



"খয়রাতির টাকা ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা নতুন নয় চিনের", এমন একটা খবর ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ছেপেছে এবং সেটার স্কিনশট ও লিংক অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করছেন।[১]

আপনারা কি ২০১৩ সালের ২১শে অক্টোবর ভারতেরই আরেকটি পত্রিকা ’দৈনিক নববার্তা প্রসঙ্গ’ তে ছাপা এই খবরটির কথা ভুলে গেছেন? সেখানে খুব স্পষ্ট করে লেখা হয়েছিল-

"বাংলাদেশের পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিক্যাল উইং (র)। গত নির্বাচনে (২০০৮ সালের নির্বাচনে) এ খাতে ভারত সরকার খরচ করেছে ৮০০ কোটি রুপি। এবার (২০১৪ সালে) তা ২০০ কোটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০০ কোটি রুপি। এতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইন্দিরা গান্ধী সৃষ্ট ‘র’-এর মাধ্যমে প্রতি নির্বাচনে দিল্লি সমর্থিত দলের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এ ধারা এখনও অব্যাহত আছে। রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিক্যাল উইংয়ের বাংলাদেশের ইনচার্জ ও সিনিয়র অফিসার বিবেকানন্দ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে ভারতের নির্বাচন যতখানি গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততখানি বাংলাদেশের নির্বাচন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঢাকায় কারা ক্ষমতায় বসবে তার ওপর ভারতের অনেক কিছু নির্ভর করছে।"

খয়রাতি টাকা যারা দেয় আর যারা নেয়, তারা দুই পক্ষই দুই পক্ষকে খুব ভালো করে চিনে এবং জানে। ভারত এতদিন যে দলটার পেছনে খয়রাতি টাকা খরচ করে নিজেদের পক্ষে থাকার শর্তে বাংলাদেশে ক্ষমতায় বসিয়ে রেখেছে, তারা এটাও খেয়াল রেখেছে যে চীনও সেই দলটিকে খয়রাতি টাকা দিয়ে কেনার চেষ্টা করে গেছে!

আনন্দবাজার পত্রিকার এই ক্ষুব্ধ খবরটি পড়ে মনে হচ্ছে- ভারত কেবল পশ্চিম রণাঙ্গণেই চীনের কাছে হারছে না, পূর্ব রণাঙ্গনের অবস্থাও খারাপ। রিপোর্টে চরম হতাশার সাথে তারা বিলাপ করে লিখেছে- "দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা-মলদ্বীপ থেকে উত্তরে নেপাল-ভুটান, কারও সঙ্গেই আর আগের উষ্ণ সম্পর্ক নেই ভারতের।"

জনগণের সাথে ’উষ্ণ সম্পর্ক’ না করে জনগণের অধিকার লুট করা লোভী রাজনৈতিক দলের সাথে ’উষ্ণ সম্পর্ক’ করলে তার পরিনতি কি হয়, চারটি প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবার পরও ভারত সেটা মোটেই বোঝার চেষ্টা করছে না।

ভারতীয়রা যদি বুদ্ধিমান হতো, তাহলে বুঝতে পারতো: ’ভাত ছিটালে কাকের অভাব হয় না’- এটা অত্যন্ত সত্য কথা। কিন্তু সেইসাথে এটাও বাস্তব যে, প্রথমতঃ ভাত ছিটিয়ে কাকই আনা যায়, ময়ুর আনা যায় না; দ্বিতীয়তঃ ছিটানো ভাত শেষ হলেই কাক অন্য ভাতারের কাছে চলে যায়, আগের ভাতারের পোষ মেনে বসে থাকে না।

পারলে জনগণের সাথে সম্পর্ক করুন, তাহলে জনগণই আপনাদেরকে নিজেদের দেশের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে সাহায্য করবে। AKM Wahiduzzaman

Keywords: , , , , ,