নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > নির্বাচিত প্রবন্ধ > সিকদারদের ক্ষমতার নেপথ্যে

সিকদারদের ক্ষমতার নেপথ্যে

Tuesday 9 June 2020, A K M Wahiduzzaman Print

আজকে প্রথম আলোর প্রতিবেদন "লাসভেগাসসহ বড় বড় শহরে সিকদার পরিবারের বিপুল সম্পদ" থেকে জানা যায়, ’বাংলাদেশে সিকদার গ্রুপের ব্যবসা বিকশিত হওয়া শুরু হয় ২০০৯ সালের পর। নতুন নতুন একাধিক বিদ্যুৎ প্রকল্প তাদের দেওয়া হয়।’

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা নিয়েই নিজেদের লোকদের কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের একের পর এক প্রকল্প দিতে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স পায় সামিট, সিকদার, মোহাম্মাদী, ইউনাইটেডরা। কোন রকম টেন্ডার ডাকা বা সরকারি ক্রয় নীতিমালা, সব তোয়াক্কা করে শুধু আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকদের হাতে তুলে দেয়া হয় এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।

সরকার চুক্তি করে কুইক রেন্টালের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১৭ টাকা দামে কেনার শর্তে। শুধু তাই নয়, যদি কোন কারণে সরকার বিদ্যুৎ কিনতে না পারে তাহলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোন বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও টাকা পাবে।

এই উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ কিনতে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ায়, ভর্তুকি দেয়ার জন্য ঋণ নেয়। দাম বাড়ানো হোক কিংবা ঋণ নেয়া হোক, দুইটাই পরিশোধ করতে হয় জনগণকে। গতকাল অর্থনীতি সমিতি বলেছে বাংলাদেশের মাথাপিছু ঋণ ৭৯ হাজার টাকা।

এই যে অন্যায়, এই যে অনিয়মগুলো, এইগুলো নিয়ে কেউ যেন প্রশ্ন তুলতে না পারে তাই সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ পাশ করা হয়।

এই আইনে দুইটা বিধান রাখা হয়-

৯। এই আইনের অধীন কৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

১০। এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি, সাধারণ বা বিশেষ আদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোন কার্যেও জন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন প্রকার আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।

অর্থাৎ যত অন্যায়ই হোক, যত দুর্নীতি হোক- এই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যাবে না, কোন মামলা করা যাবে না, আদালতে যাওয়া যাবে না। এক কথায় ইন্ডেমনিটি আইন করা হয়। এই আইনের মেয়াদ পরে দফায় দফায় বাড়ানো হয়।

আজকে এই যে সিকদারদের দৌরাত্ম্য, তাঁদের এত কোটি টাকা পাচার, বিশ্বের ৪০-৫০টি দেশে তাঁদের ব্যবসা- এগুলোর পেছনে আছে এই ইন্ডেমনিটি, যা পাশ করেছে শেখ হাসিনার সরকার। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এদের সকল অপকর্মে মদদ দিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ।

তাই সিকদারদের বিচার এই আওয়ামী লীগের আমলে সম্ভব না। কখনই না। কারণ সিকদারদের বিচার করতে হবে সবার আগে বিচার করতে হবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের প্রধান শেখ হাসিনার।

এই সত্যগুলো বারবার বলতে হবে, বারবার প্রচার করতে হবে, বারবার জানাতে হবে।

Keywords: , ,