নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > নির্বাচিত প্রবন্ধ > ড. সা’দতের শোকগাথায় ১/১১-এর নির্যাতন কবুল করে নিলেন বিএনপি!!!

ড. সা’দতের শোকগাথায় ১/১১-এর নির্যাতন কবুল করে নিলেন বিএনপি!!!

Thursday 23 April 2020, Oliullah Noman Print

ড. সা’দত হোেেসইনের মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শোকগাথা দেখে অবাক হইনি। অবাক হয়েছি বরং দলটির নেতারা শোকে অজ্ঞান হয়ে যাননি দেখে! জেনারেল মঈন উদ্দিন, মাসুদ উদ্দিন এবং ফখরুদ্দিনের মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন। যাতে তাদের মৃত্যুতেও দলটির শোকগাথা ও কান্না দেখে যাওয়ার সুযোগ হয়। ড. সা’দত হোসেইনের শোকগাথার ভাষা ও বাক্যচয়ন দেখে মনে হচ্ছে, মঈনের মত্যুর পর তারা লিখবেন-‘বঙ্গবন্ধু আমলের সেনাবাহিনীর প্রথম ব্যাচের চৌকস অফিসারের মত্যুতে গভীর শোক’। তারপর পর শোকগাথায় লিখবেন সেনাবাহিনীর দায়িত্ব পালনের তাঁর ভুমিকা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। একই সাথে সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়বেন। যেভাবে ড.সা’দতের জন্য কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন! আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে হয়ত: এমন দৃশ্য দেখার সুযোগ হবে।
১/ ড. সা’দত হোসেইন তাঁর চিন্তা ও চেতনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। তাঁর চিন্তার সাথে তিনি আপস করেননি কখনো। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দৈনিক মানবজমিনে তাঁকে নিয়ে একটি লেখা পড়লাম। ওখানে স্পষ্টভাষায় বলা হয়েছে, সচিবদের মধ্যে কথিত চেতনাবজাদের একজন ছিলেন তিনি। সে চেতনা থেকেই ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারীর ১/১১ জরুরী অইনের অন্যতম কুশিলবের ভুমিকায় পালন করেন। যার পুরস্কার হিসাবে পেয়েছিলেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদটি। ওই পদে বসেই প্রথম তাঁর চেতনার জানান দেন। ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় চুড়ান্ত হওয়া ফলাফল বাতিল করেন। এই ফলাফল বাতিলের মাধ্যমে তাঁর কাজের সূচনা করেন সেখানে। রাজনৈতিক চেতনা থেকেই পেটে লাথি দিয়েছেন, বঞ্চিত করেছেন বহু যোগ্য চাকুরি প্রার্থীকে। কারন কি! কারনট হচ্ছে, ২৭তম বিসিএস পরীক্ষাটি চুড়ান্ত করেছিল ৪ দলীয় জোট সরকারের গঠিত পাবলিক সার্ভিস কমিশন। তাই এ কমিশনের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। এখানে বিশেষভাবে বিএনপি মহাসচিবের শোকগাথায় বর্ণিত একটি বাক্য উল্লেখ্য। শোকগাথায় বলা হয়েছে-পিএসসি’র চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সেটা উত্তর প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্তা হিসাবে গণ্য হবে। তাইলে তো বলতে হয়, বিএনপি ড. সা’দদের সেই চেতনা কবুল করে নিয়েছে!
২/ তাঁর চেতনা কতটা শানিত ছিল সেটা আরো বোঝা যায় ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহনের পর। ড. সা’দত হোসেইন তখন পিএসসি থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা তাঁকে বারন করেন। স্বপদে চাকুরির মেয়াদ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন! এবার বুঝে নেন। শেখ হাসিনা কাদের প্রতি আস্থা রাখেন! শেখ হাসিনা জানতেন তাঁর চেতনার বিষয়টি। তাই সে অনুযায়ী তাঁকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল রাখেন! কারন কেবিনেট সচিব থাকাকালে তাঁর পিএস ছিলেন একজন খাটি আওয়ামী লীগার। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলো কেবিনেট সচিবের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণি তৈরি করেন। বৈঠকের প্রস্তাব গুলো তৈরি করেন। সুতরাং পিএস সবকিছু জানেন। ওই পিএসএর’র মাধ্যমে সে গুলো আওয়ামী লীগের কাছে পৌছানো হত নিয়মিত। তাঁর পুস্কার হিসাবেই শেখ হাসিনও তাঁকে পিএসসিতে রাখেন ২০১১ সাল পর্যন্ত!
একটা বিষয় অবষ্মিরণীয়। সাইফুর রহমানের হাত দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি দাড়িয়েছে। সিলেটের নান্দনিক সার্কিট হাউজ তাঁর স্বপ্নে তৈরি হয়েছি। কিন্তু মৃত্যুর আগের সিলেট সফরে তিনি ওই সার্কিট হাউজে ১ রাত থাকার জন্য রুম বরাদ্দ চেয়েছিলেন। তাঁকে সেটা দেয়া হয়নি। ওই সফর থেকে ফেরার পথে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। আওয়ামী লীগ একটি শোকবার্তাও দেয়নি তখন! কারন শেখ হাসিনা তাঁর চেতনার সাথে আপস করেন না। উদাহরণটা একারনে দিলাম, শেখ হাসিনার চেতনার সাথে ড. সাদতের চেতনার মিল ছিল। তাই তাঁকে পিএসসিতে রেখেছিলেন ২০১১ সাল পর্যন্ত!

৩/ ড. সা’দত হোসেইনের চেতনায়ই যদি বিএনপি’র বিশ্বাস হয়, তাইলে বলার মত কিছু নাই। বিএনপি’র নেতৃত্বে ৪ দলীয় জোট সরকারের গঠিত কর্মকমিশনের চুড়ান্ত করা নিয়োগ বাতিল করে তিনি তো উত্তম দৃষ্ঠান্তই স্থাপন করে গেছেন! যেমনটা বলেছেন বিএনপি’র মহাসচিব! বিএনপি’র সময় দলীয় করণের অভিযোগে এটি বাতিল করা হয়েছিল। ড. সা’দতের মৃত্যুর পর হলেও বিএনপি এই দলীয়করনের অভিযোগটি কবুল করে নিলেন! তাইলে আর পানি এত ঘোলা করার দরকার কি! ১/১১-এর সময় দলটির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল সেগুলো কবুল করে নেয়ার ঘোষণা দিলেই পারেন! আন্দোলনের নামে এত প্রাণহানি ঘটে না। হাজারো নেতাকর্মীকে জেল, জুলুম, নির্যাতন সইতে হত না।

৪/ এটাও ঠিক, দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ইন্ডিয়ার পদতলে সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেয়ার মূল কাজটি করেছে ১/১১-এর জরুরী আইনের সরকার। এই সরকারের অন্যতম কুশিলবদের একজন ড. সা’দত হোসেইন। বিএনপি’র শোকগাথায় বর্ণিত বাক্য গুলো অনুযায়ী বলতে হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে গ্যাটকো মামলায় তাঁর ভুমিকাও সঠিক ছিল! এটাও তাঁর চাকুরি জীবনের অনুকরণীয় দৃষ্ঠান্ত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য! তাই না!

৫/ বিএনপি জামানার অনেক গুলো ভাল কাজ ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা। ২০০৪ সালের নভেম্বরে এ কমিশন গঠন করা হয়। তখনো অনেক সময় বাকী। চাইলে চার দলীয় জোট সরকার অনেক কিছুই করতে পারতেন। তখন কেবিনেট সচিব ড. সা’দত। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী সরকারের সাথে কমিশনের যোগাযোগের মূল মাধ্যম হচ্ছে কেবিনেট সচিব। নবগঠিত কমিশনকে তিনি কোজ কাজই করতে দেননি। কমিশনের সকল উদ্যোগ তাঁর কাছে আটকে যেত। এনিয়ে তখন বহু রিপোর্ট লিখেছি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায়। মোটকথা দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন হলেও একটি অচল সংস্থা হিসাবে পরিচিত লাভ করে তখন। এ অচলাবস্থা তৈরির মূল হোতা ছিলেন ড. সা’দত হোসেইন। এটা তখনই লেখা হয়েছে বহুবার।

৬/ অনুজ সাংবাদিক কাফি কামাল গতকাল তাঁর একটি ষ্মৃতি লিখেছেন। সেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন, ২০০৭ সালের মে মাসের একটি সেমিনারে ড. সা’দত হোসেইনের একটি বক্তব্য। এ বক্তব্যে সা’দত হোসেইন যে কোনমূল্যে জরুরী আইনের সরকারের সাফল্য চেয়েছিলেন। তাইলে জরুরী আইনের সরকারের অন্যতম কাজের মধ্যে একটি ছিল বেগম খালেদা জিয়াসহ পরিবারের সবাইকে জেলে ঢোকানো। বেগম খালৈদা জিয়ার দুই ছেলের উপর শারিরীক নির্যাতন চালানো। সুতরাং বিএনপি মহাসচিবের শোকগাথায় বণিত, সা’দত হোসেইনের অনুকরণীয় দৃষ্ঠান্ত গুলোর মধ্যে এটাও কি অন্তর্ভুক্ত?
ড. সা’দত হোসেইনের ভাল কাজ গুলো আল্লাহ গ্রহন করুন।

Keywords: ,