নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > নির্বাচিত প্রবন্ধ > করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ডায়রি ২

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ডায়রি ২

Friday 17 April 2020, শাহরুল ইসলাম শাফিন Print

আস-সালামু আলাইকুম ,
আমি শাহরুল ইসলাম শাফিন।
বর্তমানে " UNIVERSITY OF DHAKA" তে " ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স" ডিপার্টমেন্টে এ ২য় বর্ষে পড়াশোনা করছি ।

জ্বি , আমি নারায়ণগঞ্জবাসী । এইটাই আমার ও আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় দোষ নাকি আমার বাবা বড় কোনো কর্মকর্তা না এইটা আমার বাবার দোষ। বিগত কিছুদিনের কিছু ঘটনা আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি দয়া করে সম্পূর্ণটা পড়বেন ।

গত ১২ এপ্রিল,২০২০ আনুমানিক রাত ১১ টায় আমার বাবা জনাব আইয়ুব আলী ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। লকডাউন শুরু হওয়ার পরে কিছু দিন উনার জ্বর থাকায় আমরা আগে উনার ব্লাড ও ইউরিন টেস্ট করাই এবং রিপোর্ট আসে উনার টাইফয়েড হয়েছে এবং ডাইবেটিস ১৪ হয়ে আছে ( সাধারণত উনার ৭/৮ এর মধ্যেই থাকতো) । তাই উনি যেহেতু টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন তাই আমরা ফোনে ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়ে বাসায় একজন ইন্টার্ন ডাক্তারকে এনে উনাকে টাইফয়েডের ইনজেকশন দেয়াচ্ছিলাম ও অন্যান্য মেডিসিন দেওয়া হচ্ছিলো কারন সিরিয়াস কেইস ছাড়া কোনো কেইস হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছিলো না । কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে উনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি ।

#ঘটনা_১ :

গত ৫ এপ্রিল আব্বুর যখন মাত্র জ্বর শুরু হয় তখন আমি হট লাইনে কল দেই এবং তাদের সব সমস্যার কথা বলি। তারা আমাকে সিভিল সার্জনের কন্ট্রোল রুম নাম্বার দেয় । আমি আমার এবং আম্মুর নাম্বার থেকে কয়েকবার কল দেই কিন্তু তারা রিসিভ করেনাই। পরে আমি নিজেই লকডাউনে আব্বুকে জ্বর নিয়ে হাঁটিয়ে ব্লাড ও ইউরিন টেস্ট করিয়ে আনি এবং ৮ তারিখ রিপোর্ট আমি নিজেই নিয়ে আসি সেটায় ছিল ওনার টাইফয়েড জ্বর এবং হাই ডাইবেটিস। এখানে এই লক ডাউনে কেন আমি কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের সাথে কথা বলতে পারিনি এবং নিজেই ঐ অসুস্থ মানুষটাকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে টেষ্ট করাতে হয়েছে তার জবাব দিবেন ।
যেখানে হটলাইন ও অন্যান্য সাহায্য নিয়ে আপনারাই এতো এতো বড় বড় কথা বলেছেন।

#ঘটনা_২ :

আব্বু যে দিন মারা যায় যায় অবস্থা রাত ১১ টার আনুমানিক সময়ে তখন এলাকার মানুষ এম্বুলেন্স ডাকায় আমি আর আমার আম্মু উনাকে নিয়ে প্রথমে "নারায়ণগঞ্জ সরকারি ভিক্টরিয়া হাসপাতালে" যাই । ঐখানের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যারা ছিলো তাদের ডাকানো হলে তারা পিপিএ পরিধান অবস্থায় আসে তারা এম্বুলেন্স থেকে আব্বুকে নামাতেই দেয় নি শুধুমাত্র দূর থেকে টর্চলাইট দিয়ে চেকাপ করে এবং বলে আপনারা "ইসলামীক হার্ট ফাউন্ডেশন " এ নিয়ে যান এবং ECG করেন । আমি তখন তাদের এম্বুলেন্সেই আব্বুকে ভালোমতো চেক করতে বললে তারা জোর করে বলে " আপনারা উনাকে ঐখানে নিয়ে যান ঐখানেও ডাক্তার আছে ওনারাই দেখে দিবে আমাদের দেখা লাগবে না " । এখানে প্রশ্ন হলো ঐখানে ওনারা ডাক্তার আর এখানে আপনারা কি তাইলে গরু ছাগল? ওকে পরে সাথে সাথে আমরা তাকে তখন " নারায়ণগঞ্জ ইসলামীর হার্ট ফাউন্ডেশন" এ নিয়ে যাই এবং নতুন করে পুরাতন নাটক আবার দেখার সুযোগ হয়। তারা আমাদের আব্বুকে এম্বুলেন্স থেকে নামাতে দিলো না এবং হাসপাতালে ডুকতে দিলো না । ইভেন তারা আমার আব্বু বেঁচে আছে কিনা মারা গেছে তা পর্যন্ত দেখতে চাইলো না । পরে আমার আম্মুর মাত্রাতিরিক্ত কান্নাকাটি আর আমার চিৎকার চেঁচামেচিতে একজন স্টাফ কিংবা ইন্টার্ন চিকিৎসক হয়তো কাছে এসে কোনোভাবে হাতটা ধরে চেক করে বলে উনি আর বেঁচে নেই । এই সিরিয়াস মুহূর্তে তাদের ছন্নছাড়া ও অগোছালো ব্যবহার আমি ও আমার মা ঐরাত সরাসরি ফেইস করি । এইটা হয়তো আরো অনেকেই দেখছেন ।

#ঘটনা_৩ :

যেহেতু মারা যাওয়ার আগে আব্বুর জ্বর ছিলো এবং লকডাউনের আগেই আব্বু সুস্থ থাকাকালীন আমার ছোটভাই কুমিল্লা তার মামাবাড়িতে যেয়ে আটকে যায় তাই এলাকাবাসী ও প্রতিবেশীরা চাচ্ছিলো আমার আর আমার আম্মুর একবার করোনার চেকাপ করা হউক। আমি নিজেও চাচ্ছিলাম এইটা করতে কারন দাফন কাফন সহ অন্যান্য কাজে আমি এবং আমার আম্মু বেশ কিছু মানুষের সংস্পর্শে ছিলাম । আমি আর আমার মা হোম কোয়ারেইন্টানে থাকায় গত ১৪ তারিখ আমি নারায়ণগঞ্জে আমাদের এলাকার দিকে এই দায়িত্ব পালনকারী ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করি এবং উনি আমাকে আমার ঠিকানা এবং নাম্বার মেসেজ করতে বলেন আমি সাথে সাথে মেসেজ করে দেই এবং তারা কবে আসবে জিগ্গেস করায় তিনি বলেন উনারা নমুনা নিতে আগামীকাল (১৫ তারিখ) লোক পাঠাবে পরের দিন তারা না আসাতে আমি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ বিষয়ক দায়িত্ব পালনকারী উচ্চ পদস্থ ডাক্তারকে জানাই । উনি বলেন আমাদের এইখানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে কিন্তু আমি তাকে বলি যে "আমি ১৪ তারিখেই ঐ ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং তারা এখন পর্যন্ত কোনো কিছু করছেন না । তখন উনি বলে ঐখানে আমার কিছু করার নেই আপনি ঐ ডাক্তারের সাথেই কথা বলুন বলে ফোন কেটে দেয়। পরে আমি নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের পার্সোনাল নাম্বার জোগাড় করে সরাসরি কল করি এই ব্যাপারে সাহায্য চাইতে । এতোক্ষণ সবার ছন্নছাড়া অগোছালো ব্যবহার দেখে আমি কিছুটা চটে ছিলাম এবং উনাকে কল দিয়ে পরিচয় দিয়ে একটু কড়াকড়িভাবে সকল সমস্যার কথা বলি । উনি বলেন,"আপনার বাবা মারা গেছে ঐটা আমার শুনার বিষয় না আপনার আর আপনার মায়ের চেকাপের জন্য আপনি ঐ ডাক্তারকে জানান ( যার সাথে আমি প্রথমেই কথা বলেছি) এখানে আমি কিছু করতে পারবো না আমাকে আর কল দিয়ে বিরক্ত করবেন না আমি আপনার এই নাম্বার থেকে আর কল রিসিব করবো না" বলে কেটে দেয় । আমি তখন আবার সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারকে কল করি উনি আবার বলেন আগামীকালকে লোক পাঠাবে । আমি অপেক্ষা করি পরেরদিন সকালে কল দিয়ে দেখি উনি ফোন অফ করে রেখেছেন । আমি পরে রাতে আবার কল দেওয়াতে তিনি বলেন উনি জানেন না কেন লোক আসে নি অথচ উনিই আমাদের এইদিকের দায়িত্বে আছেন তাও উনি না জানলে কে জানবে এইটা আল্লাহই ভালো জানেন । পরে বলেন আজ রাত হয়ে গেছে উনারা আগামীকালে লোক পাঠাবে যেটা পরের দিনেও পাঠায়নি ।

#শেষ_কথা

অনেক নিউজ গত কিছুদিন ধরে দেখছি যে অনেকে করোনা টেষ্ট করার থেকে বাঁচার জন্য পালাচ্ছে এবং তাদের জোর করে ধরে আনা হচ্ছে , সেখানে আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তাদের চেক করাতে আহ্বান করাতেও কোনো উন্নতি দেখি নাই ।
আমার কথা হলো একটা চেকাপের নমুনা নিতে তারা আর কতোদিন মানুষকে ঘুরাবে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষার্থীর যদি এতো সেনসেটিভ বিষয়ে প্রশাসন থেকে সাহায্য পেতে এতোটা যাক্কি পোহাতে হয় সেখানে অজপাড়াগায়ের একটা "দিন আনা দিন খাওয়া" মানুষের যে কি অবস্থা হচ্ছে তা আসলেই চিন্তার বিষয় । শুধু আমি না হয়তো এমন অবহেলার শিকার আরো অনেকেই হচ্ছে শুধুমাত্র বলছেনা । বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং অনুরোধ করছি দেশের এসব পদে দায়িত্ব পালনকারী মানুষদের শুধুমাত্র যোগ্যতা পরিক্ষা না করে তারা তাদের দায়িত্ব নিয়ে কতোটুকু উদ্যমী তাও পর্যবেক্ষনে রাখবেন। এবং এই পোস্টটা দেওয়ার পরে তাদের কাজের গতি হতেও পারে নাও হতে পারে কিন্তু বাবা হারা একটা ছেলেকে কেন এই অবস্থায় পরতে হচ্ছে আমি এর জবাব চাই ।

ধন্যবাদ।
শাহরুল ইসলাম শাফিন,
ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স বিভাগ, ২৫তম ব্যাচ।


আপনাদের বাংলাদেশের কোভিড-১৯ নিয়ে কি চলছে তার একটা ফার্স্ট হ্যান্ড সোর্স থেকে প্রাপ্ত নজির দিচ্ছি। দুই দিন আগে পোস্ট দিয়েছিলাম আমার স্কুলের বন্ধু Fahad Seraj তার বাবা হারিয়েছেন বিনা চিকিৎসায়। এভাবেই ফাহাদ স্ট্যাটাস দেন ১৩ তারিখ সকালে। এরপর সে থেকে আজ প্রথম স্ট্যাটাস দিল (ছবিতে)। যেহেতু আজ সকালেই ও জানতে পারল তার বাব মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে তাই এখন সে, তার মা, ভাই, স্ত্রী ও দুধের শিশু সন্তান ওদের সিপাইবাগের বাসায় হোমলকড।
একটু আগে কথা বলার সময় ও কমপক্ষে ৪০ বার খুশখুশে কাশি দিয়েছে এবং বলল শ্বাসকষ্টে ভুগছে। তার স্ত্রীর ও একই অবস্থা। মা, বাচ্চা আর ভাই কিছুটা ভাল। আইইডিসিআর থেকে গতকাল বলেছে তাঁরা আসবেন ওদের টেস্ট করানোর জন্য আগামী ৩ দিনের মধ্যে! এবং এও বলেন যদি না আসতে পারেন তবে ফাহাদ যেন তার পরিবারের ৪ সদস্যদের নিয়ে বিএসএমএমইউ তে চলে যান সকাল ৮-১ টার মধ্যে।
এই সকাল ৮-১ টার মধ্যে না যেতে পারার কারণে ওরা আঙ্কেলের টেস্ট করতে পারেন নাই। আঙ্কেল প্রথম অসুস্থ বোধ করেন ৮/৯ তারিখ থেকে এবং ১০ তারিখে পরিস্থিতি খারাপ হলে ওরা তাকে নিয়ে কয়েক হাসপাতাল ঘুরে স্কয়ারে নিয়ে যান। এবং স্কয়ার তখন ওনাকে কোন ট্রিট্মেন্ট না দিয়ে এমনকি ভেন্টিলেশন ও দেয় নাই। বরং কয়েকটা টেস্ট দেয় এর মধ্যে করোনা ছিল।
এই টেস্ট করতে গিয়ে ফাহাদ দেখল খোদ রাজধানীতে থাকা মানুষের কি হাল হয়। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে সে দিগ্বিদিক শুধু ছুটেছে। প্রথমে গেল কুয়েত-মৈত্রীতে, স্কয়ারের এক ডাক্তারের পরামর্শে। উত্তরার এই হসপিটালে যাওয়ার পর ওনারা বললেন তাঁরা পুরা প্যাক্ট। এবং টেস্ট করেন না। তাদের পরামর্শ ছিল আইইডিসিআর ে যাওয়ার। আমার বন্ধু গেল মহাখালীর এই সংস্থায়। ওইখানে তাদের বলা হল ১৮ তারিখ,(মার্চ ১৮) থেকে তাঁরা টেস্ট করছেন না। তাদের পরামর্শ শাহবাগের বিএসএমএমইউ তে নিয়ে যাওয়ার।
অতঃপর ওরা আইডিসিআর কে কল দিল তারাও বললেন আগামীকাল সকালে নিয়ে যেতে। এবং হটলাইন থেকে বলল এখন গিয়ে লাভ হবেনা
কেননা তখন দুপুর ২ টা বেজে গেল। অর্থাৎ আঙ্কেল টেস্ট করাতে পারলেন না সেদিন। এবং আরও বলল তাঁরা পরদিন লোক পাঠাবে ওনার স্যাম্পল কালেক্ট করতে।
১১ তারিখ আইডিসিআর কাউকে পাঠালোনা। এবং আমার বুদ্ধিমান বন্ধু স্প্রেড যেন না হয় তাই বাসা থেকে বের না হওয়ার সিধান্ত নিল। অপেক্ষা শুরু আইইডিসিআর এর। এবং পরদিনও কেউ এল না। ১৩ তারিখ ভোরে আন্টি ফাহাদকে ডেকে বলল আঙ্কেলের শরীর বেশ খারাপ। উনি নামায পড়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু পারেন নি। ওনার সারারাত কাশি হয় যার কারণে বুক বেশ নিচু হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখনও উনি জীবিত।
উপায় না দেখে আবার ও কল দিল হটলাইনে ( আইডিসিআর) কিন্তু কেউ উঠালোনা কয়েকবারের চেস্টায়। অতঃপর কল দিল ৯৯৯ এ পুলিশ কন্ত্রোল রুম থেকে বলা হল এম্বুলেন্স পাঠাচ্ছে দ্রুত। তখন সকাল ৬ টা বাজে। একঘন্টার মধ্যে এম্বুলেন্স আসবে। কিন্তু সে এক ঘন্টা আর এলোনা।
এম্বুলেন্সের ড্রাইভার একঘণ্টা পর কল দিল বলল আসছে। তার কয়েক মিনিট পর আবার কল দিল জিজ্ঞেস করল আঙ্কেলের কি শ্বাসকষ্ট বা কাশি আছে কিনা। জানার পর সে বল ভাই আসতে পারবনা আমি। অন্য কাউকে পাঠাচ্ছি। সকাল ৮ টা। কেউ আর এলনা কল ও দিল না। ফাহাদ নিজেই গাড়ি ম্যানেজ করে কোন মতে নিস্তেজ বাবাকে ওঠাল গাড়িতে ভাইয়ের সাহয্যে। গাড়িতে ঊঠার কিছুক্ষণ পর আঙ্কেল শেষ নিঃশ্বাস দেন। অতঃপর ফাহাদ নিয়ে গেল ঢাকা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সীতে। ১৫-২০ মিনিট পর ডাক্তার এসে বললেন উনি আর নেই।
এইবার আরেক সমস্যা। লাশ কিভাবে নিবে কেননা তার টেস্ট করার জন্য স্যাম্পল লাগবে। এবং এক ঘন্টা পর স্যাম্পল নেয়া হল ওরা নিথর দেহ এনে তালতলায় নিজেরাই দাফন করলেন।
আমি নিজে কোন মন্তব্য করলাম না। শুধু বর্ণনা দিলাম। ভাল থাকুন সবাই। ফি আমানিল্লাহ। - Shatil Alam Shuvo, 16.02.2020

Keywords: ,