নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > প্রেস রিভিউ > করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ডায়রি ২

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ডায়রি ২

16 March 2020, Zia Hassan PrintShare on Facebook

গতকাল আমি বাংলাদেশের বেশ কয়েক জন সিনিয়র হেলথ প্রফেশনাল, ডাক্তার, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি, তাদের কথায় বেশ কিছু জিনিষ উঠে এসেছে।

১। ১৫ তারিখের আগে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি হসপিটালে একটাও প্রটেক্টিভ মাস্ক, প্রটেক্টিভ ইকুইম্পমেন্ট বা পিপিই ইত্যাদি ছিল না।এমন কি ঢাকার বড় বড় হসপিটালে একটিও প্রটেক্টিভ মাস্ক ছিল না।

গতকাল অনেক গুলো বড় হসপিটালে এই গুলোর সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই গুলো কিভাবে পড়তে হবে তার কোন ট্রেনিং দেওয়া হয় নাই।(পিপিই কিভাবে পড়তে হয়, তা নিয়ে ট্রেনিং লাগে)। ফলে, ডাক্তার নার্স এবং হস্পিতালের কর্মীরা ভয় পাচ্ছেন সবার আগে তারা ইনফ্যাক্টেড হবেন।

২। এই ভয়ের রেজাল্ট কি আমরা দেখেছি । চিকিৎসকেরা রোগীদের টাচ করতে ভয় পাচ্ছেন। এবং তার ফলে করোনা সন্দেহে গতকাল ক্যানাডা থেকে আসা একজন তরুণী বিনা চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে মৃত্যু বরন করেছে।

যদি ঢাকা মেডিকেল কলেজে এই অবস্থা হয়, আপনি চিন্তা করতে পারে যশোর, খুলনা গাইবান্ধা বা রাঙ্গামাটিতে কি হচ্ছে।

৩। পুরো রোগের ম্যানেজমেন্ট আইইডিসিআরের হাতে সেন্ট্রালাইজ করা হয়েছে।
যেমন করোনার ডিটেকশন, টেস্টিং এবং এমনকি স্বীকৃতি আইইডিসিআরের কাছ থেকে আসতেছে।

বাংলাদেশ অনেক বড় দেশ। এই দেশে বছরে প্রায় ৪০ লক্ষ লিগাল কন্ট্রাক্ট একজেকিউট হয়। এই দেশ থেকে ভারতে হেলথ ট্যুরিজমে বছরে প্রায় ৭ থেকে ১০ লক্ষ লোক ভিজিট করে।

ফলে এই পুরো দেশের করোনার ম্যানেজমেন্ট একটা ছোট ৪০ থেকে ৫০ জনের টিমকে দিয়ে কিভাবে ম্যানেজ করা হবে সেইটা আল্লায় জানে।

এর পেছনে একটা যুক্তি থাকতে পারে যে, আমাদের প্রাইভেট হেলথ সিস্টেম ব্যবসা করবে। এই ক্ষেত্রে আমার বন্ধুদের যুক্তি ছিল, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সরকার যখন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল তখন সরকার অনেক কিছু ম্যানেজ করতে পেরেছিল।

এবং ফলাফল কি হচ্ছে আমরা জানি, আইইডিসিআর শুধু মাত্র বিদেশ ফেরত অথবা যাদের পূর্বের রোগীদের কন্টাক্ট হিস্টরি আছে, তাদের করোনা টেস্ট করছে।

ডাক্তারদের প্রশ্ন , তাদের কাছে অসংখ্য রোগী আসছে যাদের সিম্পটম করোনার মত। আইইডিসিআর তাদের টেস্ট করছেনা, কারণ তাদের হিস্টরি নাই। এবং তাদের নিয়ে কোন ধরনের প্রিকশন নেওয়া হচ্ছেনা। এবং এদের মধ্যে যদি সত্যি করোনা রোগী থাকে তবে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে।

এবং এর মুল কারণ শরটেজ। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত করোনা টেস্টিং কিট নাই।

৪। সরকারের কাছে করোনা টেস্টিং কিট কয়টা আছে তা একটা রহস্য। আমি ২০০০ থেকে ১০,০০০ এই ফিগারটি পেয়েছি। এবং ২০০০ কিট আছে এই তথ্যটিই সব চেয়ে বেশী পেয়েছি।
এও শুনেছি তার মাঝে কিছু বিশেষ অফিস ১০% নিয়ে রেখেছে।

পাকিস্তানে ওরা দিনে ১৫,০০০ টেস্ট করছে।
কিন্তু বাংলাদেশ কেন আরো টেস্টিং কিট আমদানি করছেনা।

আইইডিসিয়ারকে কেন সাংবাদিকদের এই প্রশ্নটি করছেননা ?

এইটা কিসের উন্নয়ন যে, পর্যাপ্ত সময় পেলেও সরকার করোনা টেস্টের কিট আমদানিই করতে পারে নাই ?

টেস্টিং করতে না পারলে, আপনি ডিটেক্ট করবেন কি করে ?

৫। চায়নার অভিজ্ঞতা বলে, করোনা রোগীদেরর মাঝে ৮০% রোগী লক্ষন নিয়ে ঘরে বসে থাকতে পারে। ২০% হসপিটালে যেতে হয়।

এবং ২০% এর মাঝে ৪ থেকে ৫% ইন্টেন্সিভ কেয়ারে যেতে হয় ভেন্টিলেটর মেশিন দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস দিতে হয়। বাংলাদেশে ভেন্টিলেটর মেশিন আছে সর্বসাকুল্যে ৫০০।

বি ভেরি ক্লিয়ার বাংলাদেশে করোনা যখন পিকে উঠবে তখন, এই ভেন্টিলেটর মেশিনের সঙ্কটের কারনে ক্রিটিকাল রোগীরা মারা যাবে। এই মেশিনটা থাকতে, অনেকে বেচে যেত। ভেন্টিলেটরের সঙ্কটটি হবে সব চেয়ে ক্রিটিকাল সঙ্কট।

মারণ ব্যাধির ইতিহাসে সব চেয়ে বড় সোপ অপেরা গুলোর জন্ম দেবে আগামী কিছু দিন পর। দেখবেন কিভাবে বাংলাদেশের সুপার এলিটেরা এই ভেন্টিলেটর মেশিন দখল করার জন্যে কি কি করে ?

মিডল ক্লাসের মধ্যে যারা জমি জমা বেচে বাবা মায়েদের চিকিৎসা দিতেন। তারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, করোনা ধরা পড়লে তাদের এই খরচ বেচে যাবে । আপনারা আইসিইউ তে সিট ই পাবেন না।

ইতোমধ্যেই ইতালি ফেরত রোগী, করোনা সন্দেহে ডাক্তারদের রোগী ফেলে রাখা ইত্যাদি নিয়ে একটা দুইটা করুন অথবা কমিকাল সোপ অপেরা দেখেছেন যেখানে আউট ব্রেক শুধু মাত্র প্রথম দিকে আছে। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি।

৬। প্রায় প্রত্যেকের বক্তব্য, অসংখ্য রোগী আসছে যাদের আমরা সাস্পেক্ট করছি তাদের করোনা আছে, কিন্তু তাদের টেস্ট করা যাচ্ছেনা। তাই তাদের করোনা পাওয়া যায় নাই। কি আর করা ?

আমেরিকাতে ইনফ্লুয়েঞ্জাতে বছরে প্রায় ৬০ হাজার রোগী মারা যায়। বাংলাদেশে কয় জন ? ওয়েল এক জনেও না।

তো করোনাতেও কেউ মরবেনা।

৭। সরকার তথ্যের সোর্স এবং বিস্তার উভয়েই ম্যানেজ করছে। ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে। ডাক্তাররা কথা বলতে ভয় পাচ্ছে যে তাদের চাকুরীর কি না হয়ে যায়।

এই অবস্থায় প্রকৃত অবস্থা কি কেউ জানেনা। কিন্তু, সকলেই বলতেছে করোনা এসে গ্যাছে ছড়াচ্ছে। কিন্তু, আমরা এইটা নিয়ে কথা বলতে পারবোনা।

Keywords

-