নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > নির্বাচিত প্রবন্ধ > মুজিব বর্ষের একমন দুধে "চোনা ঢালকের" এক ফোটা দানঃ ১

মুজিব বর্ষের একমন দুধে "চোনা ঢালকের" এক ফোটা দানঃ ১

20 January 2020, Pinaki Bhattacharya PrintShare on Facebook

২১ ডিসেম্বর ১৯৭৪ গার্ডিয়ানে শেখ মুজিবের শাসন ও বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

শিরোনামঃ নো গ্রেইট শেখ: মহান শেখ (মুজিব) নয়

সেখানে বলা হয় স্বাধীনতার তিন বছর পরে জনপদে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে, দুর্নীতি আর অদক্ষতার কারণে পাকিস্তান আমলের চাইতে মানুষের জীবনযাত্রার মান কমেছে। সবখানে দুঃখ আর হতাশা।

বিদ্ব্যতজনেরা মনে করেন, স্বাধীনতার পরে জনগনের মনে যে উত্তুঙ্গু আশার সঞ্চার হয়েছিলো দেশের নেতা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিদেশীরা মনে করছে সমস্যার মাত্রা এতোই বিশাল যে পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষ আর প্রগতিশীল সরকারও এই সমস্যার সমাধান করতে বছর বছর পার করে দেবে।। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ প্রগতিশীল বা দক্ষ কোনটাই নয়।

তোমার কি মনে পড়ে, শেখ মুজিব যখন পাকিস্তানের জেলে ছিলো আর আমরা কোলকাতায় নির্বাসনে ছিলাম তখন কীভাবে আমরা তাঁকে পূজা করতাম? তোমাকে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, তিনি আমাদের দারুণভাবে হতাশ করেছেন।" একজন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বলেন। খুব সম্ভব এই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কর্নেল ফারুক। কারণ একই ধরণের কথা আমরা কর্নেল ফারুকের মুখে এন্থনি ম্যাসকারেনহাসের বইয়ে পাই।

মুক্তিযুদ্ধের পরে শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ দ্রুততার সাথে অবাঙালিদের মালিকানায় থাকা কল কারখানাকে রাষ্ট্রীয়করন করে তার ব্যবস্থাপনা নিজেদের হাতে তুলে নেয়। তারা কেউই ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ছিলোনা, এমনকি তাদের দেশের জন্য কোন মোটিভেশনও ছিলোনা। সকলেই এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ গড়েছেন। এবং চোরাই টাকাগুলো বিদেশে পাচার করেছেন।

এর ফলে পাকিস্তান আমলে কারখানাগুলোতে যে পরিমানে উতপাদন ছিলো তার ধারে কাছেও এতোদিনে তারা পৌছুতে পারেনি। এখন যেকোন কাজের জন্যই হয় ঘুষে দিতে হয় অথবা শেখ মুজিবের কোন আত্মীয়কে যদি কেউ ধরতে পারে তবে কাজ হয়। প্রত্যেক সপ্তাহেই শহরে অবস্থা খারাপ হচ্ছে। গ্রামের অবস্থা আরো হারাপ, কৃষকেরা দাঁতে দাঁত চেপে দারিদ্রসীমার নিচে থেকে কোনমতে টিকে আছে। মুদ্রাস্ফিতি ৪০ শতাংশে পৌছেছে।

সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হচ্ছে রক্ষি বাহিনী নামের প্যারা মিলিশিয়া বাহিনীর কর্মকাণ্ড। এরা ছিলো জার্মানির নাজি সরকাকের এস এ বাউন শার্ট বাহীনির মতো সংগঠিত দলীয় রাজনৈতিক গুণ্ডা । রাষ্ট্রের কাছে নয় এদের আনুগত্য ছিলো আওয়ামী লীগের প্রতি।

এতো কিছুর পরেও দেশের মানুষ অনেকটাই নির্লিপ্ত। কেউই কোন আন্দোলন সংগ্রাম করছে না। সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধ আদের সব উদ্যম নিঃশেষ করে দিয়েছে।

কথা শোনা যাচ্ছে শেখ মুজিব ফ্রান্সের মতো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার গঠন করে, আমলাদের দিয়ে তার দলের লোকদের প্রতিস্থাপিত করবেন।

শেখ মুজিবের রাজনৈতিক কৌশল দক্ষ লোকেদের তার জন্য কাজ করতে বাধা দেয়। দক্ষ ও নেতৃত্বের গুনাবলী সম্পন্ন কাউকে দেখলেই তিনি তাঁকে তার প্রতিদ্বন্দ্বি বলে মনে করতে থাকেন।

বাংলাদেশ এক গভীর অতলে নিমজ্জিত হচ্ছে। সরকারী কর্মচারীরা এই দুরবস্থার জন্য একবার ১৯৭১ এর যুদ্ধ, আরেকবার ভারত, আরেকবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর যা কিছু মাথায় আসছে সবকিছুকেই দোষ দিচ্ছেন। শুধু তাদের নিজেদের কোন দোষ পাচ্ছেন না, যারা এই পচনের জন্য দায়ী।


 মুজিব বর্ষের শত কোটির উতসবে আমার ক্ষুদ্র চোনা 

গার্ডিয়ানে ১৯৭৩ এর নির্বাচনের পরে বাংলাদেশকে নিয়ে রিপোর্ট। শিরোনাম, "মুজিবের এক দলীয় গনতন্ত্র"

নির্বাচনে যে নজিরবিহীন সন্ত্রাস, প্রতারণা, ডাকাতি হয়েছে তা দিয়েই রিপোর্টের শুরু। এই কাজটা নাকি ১৯৭০ এর নির্বাচনেও হয়েছিলো তা এই রিপোর্টেই আছে। শেখ মুজিব যেই আসনে প্রার্থী ছিলো সেই আসনের প্রিজাইডিং অফিসার বলেছে, যে একজন কীভাবে ডজন ডজন ভোট দিয়ে গেছে, আর সেটা দেখেও তিনি ভয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি। ভোটার তাড়িয়ে দেয়ার যে তরিকা আমরা গত নৈশ ভোটে দেখেছি, তা সেই ১৯৭৩ তেও ঘটেছিলো। রক্ষি বাহিনী অস্ত্র তাক করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ভোট দিতে গিয়ে বেশীরভাগ মানুষই দেখেছে ভোট দেয়া হয়ে গেছে।

তবে নৈশ ভোট শেখ হাসিনার একক আবিষ্কার। এই জন্য শেখ হাসিনা কৃতিত্ব নিতেই পারেন। বাকিটা প্রায় আগের মতোই। তফাত একটাই ১৯৭৩ এ শেখ মুজিব ফেয়ার ইলেকশন দিলেও জিততেন। আর ২০১৮ তে হাসিনা ফেয়ার ইলেকশন দিলে নিজের সিটেও জিততেন কিনা সন্দেহ আছে। আওয়ামী লীগ এক লজ্জাজনক সংখ্যালঘুতে পরিনত হতো। শেষ বাক্যটা অবশ্য আমার না, বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদুতের।

আমার "এক ফোটা চোনা" কি চলবে নিয়মিত? রান্নাঘরে আরো আছে। চিল্লায়ে বলেন "চোনা" চান কিনা?

নিবেদক মুজিব বর্ষের "চোনা ঢালক"

Keywords

-