নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > নির্বাচিত প্রবন্ধ > কুখ্যাত ১/১১

কুখ্যাত ১/১১

12 January 2020, Oliullah Noman PrintShare on Facebook

বিকালে কাজ থেকে ফিরে ভাবলাম লিখি। কুখ্যাত ১/১১ নিয়ে সকালে লেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু রিজিকের সন্ধানে দৌড়াতে হয়েছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাসায় ফিরলাম। রাতের খাবার খেয়ে অনলাইন পত্রিকা গুলোতে ঢু মালাম। কিন্তু কোথায়ও ১/১১ নিয়ে একটি শব্দ পেলাম না। এমনকি যারা তখন ১/১১ হচ্ছে আমাদের আন্দোলনের ফসল বলে গর্ব করেছিলেন, তাদের পত্রিকায়ও এনিয়ে কিছুই পেলাম না খুজে।
১/১১ মানে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী। সেদিন দেশে জরুরী আইন জারি হয়েছিল। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল ২২ জানুয়ারীর নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন। গণতন্ত্রকে আটকে দেয়া হয়েছিল এদিনে। এই ১/১১ নিয়ে আলোচনা করতে হলে প্রথমত ৩টি বিষয় সামনে আসে। (ক) কেন ১/১১-এর সরকার এসেছিল। (খ) এ সরকারের মূল কতৃত্ব কাদের হাতে ছিল। (গ) জরুরী আইন ঠেকাতে না পারার ব্যর্থতা কার?
এ বিষয় গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই। যতটুকু সংক্ষেপে পারা যায় মূল বিষয় গুলো তোলে ধরার চেষ্টা করব। কারো দ্বিমত থাকলে কমেন্টস বক্সে মতামত দিতে পারেন। নিজেকে শোধরে নেয়ার চেষ্টা করব।
কেন ১/১১-এর জরুরী আইনের সরকার এসেছিল:
জরুরী আইন জারির পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও দাবী করতেন এটা তাদের আন্দোলনের ফসল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চলছিল লাগাতার। বলা চলে ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয়েছিল। তখন দাবী ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংস্কার। ৪ দলীয় জোট সরকার তখন ক্ষমতার শেষ পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সকরার সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াওসহ ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির তীব্রতা বাড়ছিল দিনে দিনে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ৪ দলীয় জোট সরকার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগে শেখ হাসিনা লগি-বৈঠা নিয়ে রাস্তায় নামার সরাসরি ডাক দিলেন। তিনি আহ্বান জানালেন, ২৮ অক্টোবর নৌকার লগি-বৈঠা নিয়ে যেন সবাই রাস্তায় নামেন। মূলত এটি ছিল একটি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির আহ্বান। তাঁর ডাকে সারা দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ ১৪ দলীয় জোটের সবাই লগি-বৈঠা নিয়ে রাস্তায় নামলেন ২৮ অক্টোবর (২০০৬)। ঢাকার পল্টনমোড়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে হাজারো মানুষের সামনে শত শত পুলিশের উপস্থিতিতে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে ৫ জনকে খুন করা হয়। লগি-বৈঠার সন্ত্রাস শুধু পল্টনেই সীমাবদ্ধ ছিল না সেদিন। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ২৯ অক্টোবর ১৪ দলীয় জোটের শরীক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ছিল-দেশজুড়ে নৈরাজ্য। উপ-শিরোনামে ছিল ১১ জন নিহত। অর্থাৎ লগি-ইত্তেফাকের রিপোর্টে উঠে আসে দেশব্যাপি লগি-বৈঠার নৈরাজ্যে ১১জন নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই বিদায়ী সরকার দলীয় চার দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদেরকে পিটিয়ে মারে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী ১৪ দলীয় জোটের লগি-বৈঠধারী সন্ত্রাসীরা। আর এই সন্ত্রাসের জন্য আগেই প্রকাশ্যে জনসভায় আহ্বান জানিয়েছিলেন বর্তমান দখলদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নিতে বিচারপতি কে এম হাসান অপরাগতা প্রকাশ করেন। সংবিধান অনুযায়ী (শেখ হাসিনার দাবীতে ১৯৯৬ সালের মার্চে সংযোজিত বিধান) সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেয়ার কথা। তিনি অপরাগতা প্রকাশ করলে সঙ্কট আরো ঘনিভুত হয়। ধাপে ধাপে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সন্ত্রাসী কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। অবরোধ, হরতালের নামে দেশ প্রায় অচল হয়ে পড়ে দিনের পর দিন।
এই সঙ্কটে বিদেশী কুটনীতিকরাও ছিলেন তৎপর। একটি দেশে অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে কুটনীতিকদের তৎপরতা ছিল প্রকাশ্যে, বিদালোকে। যা রীতিমত কুটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। এটা ছিল দেশের অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে বিদেশীদের সরাসরি হস্তক্ষেপ।
অর্থাৎ শেখ হাসিনার লগি-বৈঠার সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, কুটনীতিকদের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ এবং মিডিয়া সন্ত্রাস একযোগে কাজ করে তখন। এর মধ্যেই সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজনও এগিয়ে চলে। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ঘটে। তারা ক্ষমতা দখলে নিয়ে দেশে জরুরী আইন জারি করে। জরুরী আইনের বিধান অনুযায়ী রাজনীতি, সভা-সমাবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী জরুরী আইন জারির পর মানুষ কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচে। অন্তত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লগি-বৈঠার সন্ত্রাস ও হরতাল-অবরোধের নামে নৈরাজ্য থেকে রক্ষা পায় মানুষ। তাই নীরবে-সরবে অনেকেই জরুরী আইনের সরকারকে স্বাগত জানায়। শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সহযোগি একদল মিডিয়া জরুরী আইনের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করে। এমনকি ডেইলিস্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রকাশ্যে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেন, এটা হচ্ছে তাদের আন্দোলনের ফসল! অপরদিকে শেখ হাসিনা কথায় কথায় দাবী করেন, তাদের আন্দোলনের ফসল হচ্ছে জরুরী আইনের সরকার।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় প্রসঙ্গে।
কারা ছিলেন জরুরী আইন জারির নেপথ্যে:
আগেই বলেছিল সেনাবাহিনী রাষ্ট্রপতিকে চাপ দিয়ে জরুরী আইন জারি করতে বাধ্য করে। সেনা বাহিনী প্রধান তখন জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমদ। তাঁর নেতৃত্বে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে চাপ সৃষ্টি করতে উপস্থিত ছিলেন সেনা গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন ভারপ্রপ্ত মহাপরিচালক, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি সহ কয়েকজন উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা। তাদের সহযোগি হিসাসে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আমিনুল করিমও মূখ্য ভুমিকা রাখেন বঙ্গভবনে।
তাদের সকলেই নিজ নিজ পদে মনোনীত হয়েছিলেন চার দলীয় জোট সরকারে পছন্দে। ৮জনকে ডিঙ্গিয়ে মঈন ইউ আহমদকে সেনাপ্রধান হিসাবে বাছাই করা হয়েছিল। বাকীদের সবাইকে পদায়ন করা হয়েছিল চার দলীয় জোট সরকারের পছন্দ অনুযায়ী। তারা কেউ জোর করে এ পদে বসেননি। বা কেউ জোর করে তাদেরকে এ পদে বসিয়ে দিয়ে যায়নি আগে থেকে। চার দলীয় জোট সরকারই পছন্দমত তাদের পদে বসায়।
তৎকালীন রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা ছিলেন মোখলেসুর রহমান চৌধুরী। তিনি ১/১১-এর বঙ্গভবনের ভেতরের ঘটনাবলীল প্রত্যক্ষদর্শী এক স্বাক্ষী। এনিয়ে আমার কাছেই তিনি একটি ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন ৪ বছর আগে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার অনলাইনে সেটা প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর মুখ থেকে শোনা। জরুরী আইন বা সামরিক শাসন জারির ইঙ্গিত পেয়ে আগে থেকেই একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বঙ্গভবন থেকে। তখন জবাবে বলা হয়েছিল, মঈন উদ্দিন বেঈমানি করে কিছু করতে চাইলে, মাসুদ উদ্দিন আসবেন সেটা ঠেকানোর জন্য! তাই জরুরী আইন জারির জন্য মঈন উদ্দিন যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে চাপ দিচ্ছিলেন, তখন তিনি জিজ্ঞাস করেছিলেন, মাসুদ কোথায়!! মঈন উদ্দিন তখন মাসুদ উদ্দিনকে ফোন করেন রাষ্ট্রপতির সামনে বসেই। মাসুদ তখন জানান, রাস্তায় আছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌছাবেন। মাসুদ উদ্দিন এসে মঈন উদ্দিনের সাথেই যোগদেন।
বঙ্গভবনে তখন কর্মে নিযুক্ত ছিলেন, এমন একজন জানিয়েছিনে তিনিও সেদিন বাথরুমে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনৈতিক নেতাকে ফোন করেছিলেন। জানানোর চেষ্টা করেছিলেন, বঙ্গভবনে মঈন উদ্দিনসহ কতিপয় সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতিকে জরুরী আইন জারির জন্য চাপ দিচ্ছেন। তখন প্রতি উত্তরে তাঁকে জানানো হয়েছিল, যা কিছু হচ্ছে সবাই পক্ষে হচ্ছে। সুতরাং এনিয়ে তাঁকে ভাবতে হবে না!
এ প্রসঙ্গে আরেকটি বিষয় এখানে অবতারনা করা যায়। চার দলীয় জোট সরকার বিদায়ের ৪দিন আগে ছিল রমজানের ঈদ। ঈদের আগে ৩ বাহিনী প্রধানকে গিফট দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ভাই মেজর অব. সাঈদ স্কান্দর। ৩জনকেই একই ব্রান্ডের একই রং ও ডিজাইনের পোশাক গিফট করা হয়েছিল। ঈদের দিন ৩ বাহিনী প্রধান একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে যান শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। সবাই তখন ওই গিফটের পোশাক পরিধান করে গিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে সবার জামা হুবহু একই রকম। তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, সরকারের আর মাত্র ৩/৪দিন সময় রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আরো অনেক কিছুই করার ছিল। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারনে পারেননি। আল্লাহ যদি সামনের নির্বাচনে আবার সুযোগ দেন তাইলে সশস্ত্র বাহিনীর অসমাপ্ত কাজ গুলো ইনশাল্লাহ সমাপ্ত করার চেষ্টা করবেন। এই বলে তিনি দোয়া চেয়েছেন ৩ বাহিনী প্রধানের কাছে। তখন মঈন উদ্দিন দুই হাত কচলাতে কচলাতে বলেছিলেন, ‘ম্যাডাম-আমাদের সোর্স বলছে আপনি আবার ক্ষমতায় আসবেন। বিপুল সংখ্যাগরীষ্ঠতা নিয়ে আপনি আবার বিজয়ী হবেন। আপনিই ক্ষতায় আসবেন। চিন্তার কোন কারন নাই’! উপস্থিত নৌ-বাহনী প্রধান এবং বিমান বাহিনী প্রধান তখন মঈন উদ্দিনের তোষামোদী দেখে পরস্পরের দিকে চোখ রাখেন! এঘটনাটি যখন ঘটে তখন ৩ বাহিনী প্রধানের পিএসদের একজন উপস্থিত ছিলেন সেখানে। প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে তাঁর মুখ থেকে শোনা।
এ তো গেল সশস্ত্র বাহিনীর প্রসঙ্গ। মঈন উদ্দিনরা ক্ষমতা গ্রহনের পর যাদেরকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তারা কারা!?
প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদ। বিশ্ব ব্যাংকের চাকুরি থেকে ডেকে এনে বালাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর বানানো হয়েছিল চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে।
১/১১-এর সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান হিসাবে নিয়োগ দেয় মেজর জেনারেল অব. হাসান মশহুদ চৌধুরীকে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তাকে সেনাবাহিনী থেকে চাকুরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করেছিল। তিনি একটি দেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। সেখান থেকে ডেকে নিয়ে এসে চার দলীয় জোট সরকার তাঁকে সেনা প্রধান বানায়। জরুরী আইনের সময় তাঁর হুঙ্কার শুনলে মনে হত দেশের মালিক মুক্তার তিনি নিজেই।
জরুরী আইনের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল অব এম এ মতিন। একই সঙ্গে তিনি গুরুতর অপরাধ দমন বা দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক একটি কমিটির প্রধান ছিলেন। অর্থাৎ দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের নামে যা হয়েছে তখন সবই ঘটেছে তাঁর তত্ত্বাবধানে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় তাঁকে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক বানানো হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত বিশ্বস্থ ছিলেন তিনি। এ বিশ্বস্থতার প্রমানও তিনি রেখেছেন ১৯৯৬ সালের ২০ মে। তখন বেগম খালেদ জিয়ার নিয়োগ দেয়া আরেক সেনা প্রধান জেনারেল নাসিম ক্যু করে ক্ষমতা গ্রহনের জন্য অভিযানে নেমেছিলেন। তাঁর এ অভিযান ঠেকানোর মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন ডিজিএফআই মহাপরিচালন জেনারেল এ মতিন। ২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহা-পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৪ সালের নভেম্বর দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন গঠনের সময় অত্যন্ত অপমানের সাথে তাঁকে বিদায় নিতে হয়েছিল। শোন যায়, বেগম খালেদা জিয়ার এক সময়ের অত্যন্ত বিশ্বস্থ জেনারেল এম এ মতিন কমিশন গঠনের সময় অপমানিত হয়েছিলেন হারিছ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মূখ্যসচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর দ্বারা।
জরুরী আইনের সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলামকে চার দলীয় জোট সরকারের সময় একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের এমডি বানানো হয়েছিল।
মূলত: খুজলে দেখা যায়, জরুরী আইনের মূল কুশিলব হিসাবে যারা নেপথ্যে ভুমিকা রেখেছেন সেনাবাহিনীর সকলেই ছিলেন চার দলীয় জোট সরকারের অতি পছন্দের লোক। জরুরী আইনের সরকারে যারা ছিলেন তাদের অধিকাংশই চার দলীয় জোট সরকারের বেনিফিশিয়ারি। এমনকি চার দলীয় জোট সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফও জরুরী আইনের সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জরুরী আইনের সরকার ঠেকানো গেল না কেন!
মাত্র আড়াই মাস আগে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছে চার দলীয় জোট সরকার। তাদের মনোনীত সেনাবাহিনীর কর্তারা রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নিতে যাচ্ছে। এটা জানতে পারলেন না কেন! বা জানলেও ঠেকানো গেল না কেন! এমন কি ঘটেছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সরকার বিদায়ের দিন পুলিশ বাহিনী লগি-বৈঠার সন্ত্রাসের দর্শক হিসাবে ভুমিকা রাখে! লগি-বৈঠার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোন রকম প্রতিক্রিয়া ছিল কেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে! কোথায় বা কেন ছিল এ ব্যর্থতা? সরকারের বিদায়ের দিনই পুলিশ কথা শুনতে রাজি হয়নি কেন! কোথায় সৃষ্ঠি হয়েছিল গ্যাপ। নাকি মঈন ইউ আহমদের তোষামোদীর মত মোসাহেবী সব জায়গায় কার্যকর ভুমিকা রেখেছিল! একরম অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে জানার। ভবিষ্যতে কেউ হয়ত এনিয়ে গবেষণা করবেন। অথবা যারা তখন ব্যর্থ হয়েছিল তারাও নিজেদের আত্মসমালোচনার মাধ্যমে রিয়েলাইজ করবেন। তাদের কারো লেখনিতে হয়ত: উঠে আসবে নেপথ্যের কারন গুলো।
সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে বাংলাদেশ:
১/১১-এর জরুরী আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে। বিদেশী কুটনীতিকদের তৎপরতা এবং ইন্ডিয়ান আধিপত্য ঝেকে বসেছে জরুরী আইনের সরকারের কাঁধে ভর করে। এক কথায় বলতে গেলে ১১ জানুয়ারী ২০০৬ তারিখে সার্বভৌমত্ব চুড়ান্ত দখলে নেয় ইন্ডিয়া।
চার দলীয় জোটের রাজনীতি ধ্বংসের চক্রান্ত শুরু হয়েছিল জোট গঠনের পরপরই। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার সন্ত্রাসী তন্ডবে রাজপথ দখলে নেয় ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদ। ১/১১-এর জরুরী আইনের মাধ্যমে সরকারও ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদের পুরো দখলে নেয়া হয়।
১/১১-এর পরপরই শুরু হয় বিএনপিকে নেতৃত্ব শূন্য করার অভিযান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নেতাদের উপর শুরু হয় নিপীড়ন। এই নির্যাতন নিপীড়নের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। জরুরী আইনের সরকারের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার দায়িত্ব বর্তায় আওয়ামী লীগ সরকারের ঘাড়ে। এর ধারবাহিকতায় আওয়ামী লীগ শুরু করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দিয়ে। তৎকালীন চার দলীয় জোট বা পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব বেগম খালেদা জিয়াকে গায়েলের পথ তৈরি করা হয় জামায়াতে ইসলামী নেতাদের ফাঁসির মাধ্যমে। সাজানো মামলায় নির্বিঘ্নে-নিরাপদে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিক্ষেপ করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ সরকার। ১/১১-এর চুড়ান্ত টার্গেট ছিল জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের ধ্বংস করা। সংবিধানের খোলস পাল্টে দেয়া। ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠা দিয়ে শুরু হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার মাধ্যমে চুড়ান্ত বিজয়ের পথে এগিয়ে গেছেন বহু দূর।

Keywords

-