নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > প্রেস রিভিউ > শাসক দলের কঠোর নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের ক্যাম্পাস

শাসক দলের কঠোর নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের ক্যাম্পাস

2 November 2019, mzamin PrintShare on Facebook

অক্টোবরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হলের মধ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বেশির ভাগই শাসক দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য। মনে করা হচ্ছে, পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের স্বাক্ষরিত চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়াতেই আবরারের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই ছাত্রলীগ সদস্যরা।
২১ বছর বয়সী ফাহাদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। একইসঙ্গে দেশজুড়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষও। যদিও এ ধরনের হত্যা বাংলাদেশে অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রায়ই ক্যামপাসগুলোতে সহিংস রাজনীতির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায়।
অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুবাশ্বার হাসান বলেন, এটা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিরই অংশ। বিরোধী দলকে দমনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো হয়ে উঠেছে একেকটি টর্চার সেল।
রাজধানী ঢাকার ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী জানান, সরকারের পক্ষে ছাত্রলীগই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে। এটা কর্তৃপক্ষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণকারীদের জন্য কঠিন জায়গা। কোনো ছেলে শিক্ষার্থীই ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া হলে সিট পায় না। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রকাশ্যেই নিজেদের দৌরাত্ম্য দেখিয়ে বেড়ায়।
আলাদা আলাদা সিটের ব্যবস্থা না করে ছাত্রলীগ প্রথম বর্ষের সকল ছাত্রকে গণরুমে রাখে। এসব রুমে কখনো কখনো শতাধিক ছাত্রকে থাকতে হয়। এখানে, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা সিনিয়র শিক্ষার্থীদের দ্বারা র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়। এই সিনিয়ররা আবার ছাত্রলীগের নেতাদের এসব বিষয়ে জবাবদিহি করে। পুরো প্রক্রিয়াটাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য সাজানো হয়েছে।
ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, আবরার শিবিরকর্মী ছিল না। ছাত্রলীগই তাকে ছাত্রশিবির হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। ইসলামপন্থি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন হচ্ছে ছাত্রশিবির। বর্তমানে যে-ই সরকারের বিরোধিতা করে তাকেই শিবির হিসেবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। কাউকে পেটালে যাতে কেউ কিছু না বলে সেজন্য ছাত্রলীগ এই সহজ অজুহাতটি দাঁড় করায়।
তবে ছাত্রলীগের প্রভাব হলের অনেক বাইরেও পৌঁছে গেছে। এ বছরের প্রথম দিকে সরকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য তহবিল বরাদ্দ করলে ছাত্রলীগের একটি শাখা থেকে তার থেকে শেয়ার দাবি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছাত্রলীগকে সেই টাকা দেন। কোমপানিগুলোকে নতুন কোনো প্রকল্প শুরু করার জন্য প্রায়ই ছাত্রলীগের স্থানীয় শাখাকে টাকা দিতে হয়। গত বছর নির্বাচনের পূর্বে বিরোধী দলের ওপর ব্যাপক দমনপীড়র শুরু হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বড় ধরনের জয় নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর থেকে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আরো কঠিন হয়ে গেছে। মুবাশ্বার হাসান বলেন, আমলা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশও এই ধারাকে গোপনে অনুমোদন করে চলে। তবে এটা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। ছাত্রলীগের পূর্বে একই কাজ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে থাকাকালীন ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলও মুক্তভাবে একইরকম পরিচালিত হয়েছে। সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের ছাত্র সংগঠনও ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত একই ভূমিকাতে ছিল। সংবাদপত্র ডেলি স্টার স্বাধীনতার পর ক্যামপাসগুলোতে ১৫১টি হত্যার ঘটনা জানিয়েছে। যার কোনো বিচার হয়নি।
তবে আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড অনেক দূর গেছে। তার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক বিস্তৃত ভারত-বিদ্বেষ মনোভাব জাগ্রত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তবে তিনি ছাত্রলীগের ভালো কাজের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদকেও মনে হচ্ছে তিনি এখন ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরতে ইচ্ছুক। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পূর্বেই ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সমপাদককে বহিষ্কার করেন তিনি। এবং এর কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্বিন্যাস করেন।
বুয়েটের ভিসি ইতিমধ্যে ক্যামপাসে র‌্যাগিং বন্ধসহ রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ করেছেন। তবে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, হয়তো ছাত্রলীগ যা করে আসছিলো সেখান থেকে সরে আসবে। তারা যদি সাময়িক সময়ের জন্যও অন্তত থেমে যায় সেটা হবে দারুণ।


Bangladesh’s ruling party runs university campuses with an iron fist

EARLY IN OCTOBER Abrar Fahad, a student at Bangladesh University of Engineering and Technology (BUET) was beaten to death in his dormitory. Police have detained 21 people in connection with the murder, many of them members of the Chhatra League, the student wing of the ruling Awami League party. He appears to have offended them by making critical comments on Facebook about a water-sharing deal the government recently struck with India.

The death of Mr Fahad, who was 21, has prompted protests at the university and a public outcry across the country. Yet such killings are quite common in Bangladesh, where violent party politics is mirrored—and often amplified—on university campuses. “This is part of the university culture,” says Mubashar Hasan of the University of Oslo. “Dormitory rooms are turned into torture rooms to quell opposition.”

The Chhatra League “basically controls universities on behalf of the government”, explains a 21-year-old student from Dhaka, the capital. That is important to the authorities, since universities have long been hotbeds of political dissent. No male student can get a room in the halls of residence without co-operating with the League or having a political connection, says a fellow student. “They show their tyranny very publicly in these universities.”

Instead of allocating the individual rooms, the Chhatra League puts all the first-year students—sometimes up to 100—in one enormous dormitory, the “public room”. Here, first-years are subjected to “ragging”, meaning bullying by older students, who report back to the League’s leadership. The whole process is designed to scare students into toeing the line.

“Abrar didn’t do that,” notes the student from Dhaka. League members accused Mr Fahad of being involved with Chhatra Shibir, the student wing of Jamaat-e-Islami, an Islamist opposition party. “Anyone who opposes the government can be called Shibir nowadays,” the Dhaka-ite continues. “It’s an easy excuse for [the League] to beat someone up and no one will say anything.”

The Chhatra League’s clout extends far beyond dormitories. Earlier this year, when the government gave funds to Jahangirnagar University for a development project, the local branch of the League demanded a share. The vice-chancellor paid up, and later gave yet more money to the League’s central committee. Companies are often forced to pay off the local branch of the League in order to start a project or operate in their area. A crackdown on opposition parties before last year’s election, which saw the Awami League re-elected in a landslide, has made it even harder to stand up to the Chhatra League.

Bureaucrats, MPs and the police connive in this system, says Mr Hasan. But none of this is new, he points out. Before Chhatra League, he says, there was Chhatra Dal—the student wing of the Bangladesh Nationalist Party, in government from 2001 to 2006. Chhatra Dal, like the Chhatra League, operated with impunity. So did the student front that backed Hussain Muhammad Ershad, the military dictator from 1983 to 1990. The Daily Star, a newspaper, looked at all campus killings since independence in 1971 and found 151 murders for which no charges had been brought.

Mr Fahad’s murder was perhaps a step too far, however. His Facebook post echoed widespread anti-Indian sentiment. Obaidul Quader, the general secretary of the Awami League, said the government would take action against the perpetrators “regardless of [their] affiliation”, although he did remind people of the Chhatra League’s “good accomplishments”. Sheikh Hasina Wajed, the prime minister, had already seemed inclined to rein in the Chhattra League. Before Mr Fahad’s death she had dismissed its president and general secretary and reshuffled its central committee.

BUET’s vice-chancellor, meanwhile, has promised not only to ban ragging, but also to bar political organisations from campus. Students doubt they have seen the last of their tormentors. “Maybe Chhatra League will stop what they’re doing,” says the student from Dhaka, “or at least take a break. That would be nice.”

Keywords

- -