নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > উপসম্পাদকীয় > বদরুদ্দীন উমর > মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

29 October 2019, বদরুদ্দীন উমর PrintShare on Facebook

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনকে পেছনে ফেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। অবশ্য প্রথম মহাযুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেন তার সর্বশেষ শক্তি প্রয়োগ করে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি, ইরান ‘অ্যাংলো ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি’ জাতীয়করণের সময়। শাহকে বিতাড়িত করে মোসাদ্দেক ইরানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এই কোম্পানিটি জাতীয়করণ করেন।

এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ব্রিটেন ইরান আক্রমণের তোড়জোড় করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষে এটা সম্ভব হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ সময় নিরপেক্ষ ছিল।

এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চক্রান্ত করে মোসাদ্দেককে উৎখাত করে আবার শাহকে ইরানে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনে। এরপর থেকে সেখানে ব্রিটেনের পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সেটা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডালেসের জমানা। তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্ট আইসেনহাওয়ারের বিদেশ মন্ত্রী।

কিন্তু তিনি এত প্রভাবশালী ছিলেন যে বাস্তবত তিনি প্রেসিডেন্টের মতোই ক্ষমতা ব্যবহার করতেন। আইসেনহাওয়ার চলতেন তারই পরামর্শ মতো।

প্রকৃতপক্ষে পঞ্চাশের দশক থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হিসেবে ব্রিটেনসহ অপরাপর সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর থেকে প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে থাকে।

ষাটের দশকে তারা পরিণত হয় অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রে। পরাশক্তি হিসেবে এভাবে আবির্ভূত হওয়ার পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব ষাটের দশকে একটা বিন্দুতে উপনীত হয়। আজ পর্যন্ত তাদের এই অবস্থান অটুট আছে, যদিও এ অবস্থান এখন অস্তমিত হতে থাকা সূর্যের মতো।

পঞ্চাশের দশক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দেশে দেশে পশ্চাৎপদ ও অনুন্নত দেশগুলো, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোতে আধিপত্য বিস্তার ও হস্তক্ষেপ করতে থাকে।

ল্যাটিন আমেরিকায় তাদের আধিপত্য উনিশ শতক থেকে অন্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর দ্বারা স্বীকৃত ছিল। ‘মনরো ডকট্রিন’ নামে ল্যাটিন আমেরিকার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নীতি ঘোষণা করেছিল, তাতে অন্য কোনো সাম্রাজ্যবাদী দেশের সেখানে অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ হয়। অতি পরাক্রমশালী রাষ্ট্র হিসেবে তারাই সেখানে তাদের শোষণ-শাসন অব্যাহত রাখে। পঞ্চাশের দশক থেকে ল্যাটিন আমেরিকার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ মার্কিন প্রভাব বলয়ের অন্তর্গত হয়।

তেলকে কেন্দ্র করে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে, লিবিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে তাদের প্রায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশও তাতে ভাগ বসায়।

সেই থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশে দেশে বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং নিজেদের সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে, যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত আছে। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে বিমান হামলার পর সেই অজুহাতে তারা আফগানিস্তান আক্রমণ ও দখল করে।

এরপরই তারা মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে ইরাক আক্রমণ ও সরাসরি দখল করে সেখানে তাদের প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত করে। তারা লিবিয়ায় সামরিক হামলা চালিয়ে সে দেশ দখল করে নিজেদের দালাল সরকারকে ক্ষমতায় বসায়। তারা সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করে ক্ষমতাসীন আসাদ সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করে।

সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর তারা নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এক্ষেত্রে শুধু ব্যতিক্রম থাকে ইরান, যেখানে ১৯৭৯ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শাহকে বিতাড়িত করে ইমাম খোমেনির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় এক নতুন রাষ্ট্র, যা পুরোপুরি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী।

তাদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর সম্পর্ক হয় শত্রুতার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু তার অর্থ শক্তি নয়, প্রধানত সামরিক শক্তির জোরেই এভাবে দেশে দেশে আক্রমণ চালিয়ে নিজেদের আধিপত্য ও অবস্থান গড়ে তোলে ও তা রক্ষা করে।

এই অবস্থা এখন পরিবর্তিত হওয়ার মুখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিছিয়ে আসার যুগ এখন শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তারা নিজেদের শক্তি কিছুটা সরিয়ে নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরে নিযুক্ত করবে, এমন ঘোষণা তারা আগেই দিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের কোনো নতুন বড় রকম উপস্থিতি নেই।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তারা নিজেদের সামরিক বাহিনীকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা এখন করছে। তারা আফগানিস্তানে সৈন্য সংখ্যা কমিয়েছে। সেখান থেকে তারা অদূর ভবিষ্যতে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছে।

আগেই তারা ইরাক থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এ মুহূর্তে তারা সিরিয়া থেকে নিজেদের সৈন্য প্রত্যাহার করছে। তারা বলেছে যে, এসব সৈন্য সিরিয়া থেকে সরিয়ে তারা ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে মোতায়েন করবে।

কিন্তু ইরাক সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, মার্কিন সৈন্যবাহিনীকে ইরাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার অর্থ সেখানে তাদের সেনা মোতায়েন নয়। সিরিয়া থেকে সৈন্য সরিয়ে নেয়ায় সাময়িকভাবে তাদেরকে ইরাকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে।

এসব সৈন্যকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে! সৌদি আরবের সঙ্গেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের মতো গাঁটবন্ধন আর নেই, যদিও তারা সেখানে অনেক অনেক বিলিয়ন ডলার মূল্যে অস্ত্র বিক্রি করেই যাচ্ছে। সৌদি আরবে যে শূন্যতার সৃষ্টি হচ্ছে সেটা পূরণ করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া এখন এগিয়ে আসছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন মাত্র কয়েকদিন আগে সৌদি আরব সফর করে এই বার্তা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে হাজার রকম ষড়যন্ত্র, এমনকি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক আক্রমণের মহড়া দিলেও শেষ পর্যন্ত সেখানকার নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব হয়নি, লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

এর কারণ ভেনিজুয়েলায় আক্রমণ করলে সেখানকার সামরিক বাহিনী ও বিপুল জনগণ তাদের প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত ছিল। তাদের শক্তির ফল চিন্তা করে ট্রাম্প রণে ভঙ্গ দিয়েছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই স্বার্থ। প্রথমত, ইসরাইলের সুরক্ষা এবং তাকে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দাবার ঘুঁটি চালা। দ্বিতীয়ত, ইরানের শত্রুতা। এক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র হল লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেন।

ইরাকের সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক। এই হল মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা। উপরিউক্ত দুই কারণে যুক্তরাষ্ট্র এতদিন মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সরাসরি উপস্থিতি রেখে এসেছিল। এখন তাদের অবস্থা খারাপ।

তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের সরাসরি উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ফিরে যেতে চায়। এজন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়ার, যদিও মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে তারা সেই অঞ্চলে নিজেদের একধরনের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের অবস্থানের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বে তাদের বৈদেশিক অবস্থানের বিষয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, গোটা বিশ্বে পুলিশম্যানের (প্রহরী) দায়িত্ব পালন করার আর কোনো প্রয়োজনীয়তা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

বুধবার হোয়াইট হাউসে এক বিশেষ বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের গতিপথ বদল করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করায় তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রক্তাক্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এ বালিতে এবার অন্য কাউকে লড়াই করতে দিন। মধ্যপ্রাচ্যে পুলিশম্যানের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার দেশের অনেক নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সদস্যকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এজন্য আমরা বের হয়ে আসছি।

দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে এবার অন্য কারও আসার পালা’ (যুগান্তর, ২৫.১০.২০১৯)। এই ‘অন্য’ হল রাশিয়া। একই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘তুরস্ক ও কুর্দিদের মধ্যে চলমান অস্ত্রবিরতি বজায় রাখতে রাশিয়া এই অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করবে বলে মঙ্গলবার একমত হয়েছে আঙ্কারা ও মস্কো।

এর একদিন পর বুধবার সিরিয়ার কৌশলগত শহর কোবানিতে সামরিক পুলিশ পাঠাল রাশিয়া। ... ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, ষষ্ঠ দিন থেকে রুশ ও তুর্কি সেনারা যৌথভাবে সিরিয়ার ১০ কিলোমিটার ভেতরে টহল দেবে’ (যুগান্তর, ২৫.১০.২০১৯)।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলে আসার কারণ সেখানে অনেক মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়া নয়। নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী অবস্থান বজায় রাখার জন্য কোথায় কত মার্কিন সৈন্য নিহত হল, এটা কোনোদিনই তাদের কাছে বিবেচনার বিষয় থাকেনি। কাজেই সেখান থেকে চলে আসার কারণ মার্কিন সেনাদের জীবন বাঁচানো নয়। এর আসল কারণ অন্য। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের বক্তৃতা প্রসঙ্গে ডেইলি স্টারের রিপোর্টে বলা হয়েছে তাদের সামরিক অভিযান ও সেনা মোতায়েনের জন্য ব্যয়ের কথা। এতে বলা হয়েছে, ‘অন্যসব জাতির এগিয়ে আসা এবং এক্ষেত্রে অংশ নেয়া দরকার।

মধ্যপ্রাচ্যে আমরা ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছি যুদ্ধের জন্য।’ (ডেইলি স্টার, ২৫.১০.২০১৯)। ৮ ট্রিলিয়ন ডলার এক আকাশচুম্বী অঙ্ক। এত ব্যয় বহন করা এখন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পক্ষে সম্ভব নয়। শুধু মধ্যপ্রাচ্যে ৮ ট্রিলিয়ন ডলার নয়, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরাক, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল এবং ল্যাটিন আমেরিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হচ্ছে বিশাল আকারে।

এই ব্যয় বহন করার ক্ষমতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই। মূলত এ কারণেই তাদেরকে সরে আসতে হচ্ছে, যদিও সম্পূর্ণভাবে সরে আসা তাদের পক্ষে এখনও সম্ভব নয়।

নিজেদের বিশ্ব আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য তাদেরকে নিজেদের কিছু সামরিক অবস্থান এখনও বজায় রাখতে হবে। তবে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব পুলিশের ভূমিকা ত্যাগ করে যে তাদেরকে হাত গোটাতে হবে, এতে আর কোনো সন্দেহ নেই।

২৭.১০.২০১৯

বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

Keywords