নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > প্রেস রিভিউ > ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন খুন হওয়া আবরার

ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন খুন হওয়া আবরার

7 October 2019, dainikeidin PrintShare on Facebook

ফেসবুকে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন বুয়েটের শেরে বাংলা হলে রাতের আঁধারে খুন হওয়া শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। তার ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে দেখা যায়, বাংলাদেশ ও কাশ্মীরে ভারতের নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লিখে আসছিলেন তিনি।

তার ফেসবুকে প্রথমেই ইন্ট্রোতে লেখা রয়েছে- ‘অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা অসীম মহাকাশের অন্তে।।।।’

ফেসবুকে তার সর্বশেষ পোস্টটি দেখা যাচ্ছে ৫ আগস্ট দেয়া। পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

১.৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২.কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩.কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
"পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।"

আরও একটি স্ট্যাটাসে আবরার লিখেন, ‘কে বলে হিন্দুস্তান আমাদের কোন প্রতিদান দেয়না। এইযে ৫০০ টন ইলিশ পাওয়ামাত্র ফারাক্কা খুলে দিছে। এখন আমরা মনের সুখে পানি খাবো আর বেশি বেশি ইলিশ পালবো। ইনশাল্লাহ আগামী বছর এক্কেবারে ১০০১ টন ইলিশ পাঠাবো।’ এই পোস্টটি গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেয়া।

বিবিসির একটি ভিডিও শেয়ার করে একটি পোস্টে আবরার লিখেছেন, ‘একাত্তরে বিরূপ পরিবেশের মধ্যেও কিন্তু বিবিসি মুক্তিবাহিনীর খবর প্রচার করে গেছে। কাশ্মীর নিয়ে ভারতীয় বাহিনীর অপপ্রচার আর তাদের মিডিয়াতে শান্ত কাশ্মীরের যে খবর প্রচার করছে একাত্তরে পাকমিডিয়াও একই কাজ করেছিল’।

ঢাকায় কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভের আরেকটি ভিডিও শেয়ার করে আবরার লিখেছেন, ‘এই ছেলে-মেয়েগুলা জানে না তারা কি অসাধ্য কাজ করেছে। শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে তাকবির ধ্বনি! কোন ইসলামপন্থী কাউকে শহীদ মিনারের আঙিনায় দেখলেই তেড়ে আসা মুখোশধারী নাস্তিকদের উপেক্ষা করে এই ধ্বনি বাংলার জন্যও মাইলফলক।’

প্রসঙ্গত, রাজধানীর চকবাজারে অবস্থিত বুয়েটের শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে রোববার আবরার ফাহাদ (২১) নামে এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। তিনি ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ফেসবুকের তথ্য অনুসারে, আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়াতে। তিনি নটরডেম কলেজের ছাত্র ছিলেন।

রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে সাধারণ ছাত্র ও কর্তৃপক্ষ ফাহাদের মরদেহ সকাল সাড়ে ৬টা দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

সহপাঠিদের অভিযোগ, রাত আটটার দিকে শেরে বাংলা হলের এক হাজার ১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন আবরারকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাত দুইটা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, ২ হাজার ১১ নম্বর রুমে নিয়ে তাকে পিটানো হয়।

বুয়েটের চিকিৎসক মাসুক এলাহী জানান, অন্য ছাত্রদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শেরে বাংলা হলের প্রথমতলা ও দ্বিতীয়তলার মাঝামাঝি জায়গায় ফাহাদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি। তার শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

তিনি জানান, রাত্রিকালীন ডিউটিতে ছিলেন। খবর পেয়ে শেরে বাংলা হলে গিয়ে ফাহাদকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে নিজে পরীক্ষা করে দেখেন, সে মারা গেছে। পরে বুয়েট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব হোসেন ফাহাদের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

Keywords

- - - -