নতুন বাংলাদেশ

নতুন দৃষ্টিতে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা > নির্বাচিত প্রবন্ধ > আইয়্যামে বাকশালীয়াত সমগ্র

আইয়্যামে বাকশালীয়াত সমগ্র

1 August 2018, কায় কায়ুস PrintShare on Facebook

“... আলীমুদ্দিন ছাতা মেরামতের কাজ করে। এ সময়টা তার জন্য ব্যস্ততার মৌসুম। রােজ বিকেলে বঙ্গোপসাগরের কালাে মেঘ পদ্মার উপর দিয়ে ভেসে যায়, আর মানিকগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি নামে।
শহরের প্রধান বাজারের রাস্তায় আলীমুদ্দিন এক পায়ের উপর আর এক পা আড়াআড়িভাবে রেখে বসে ছেঁড়া ছাতা সেলাই করে, জোড়া তালি দেয় এবং ছাতার শিক মেরামত করে। সাইড বিজনেস হিসেবে পুরান তালা মেরামত করে, পুরান চাবিও সরবরাহ করে।
এমন মৌসুমেও আলীমুদ্দিন ক্ষুধার্ত। বলল, “যেদিন বেশী কাজ মেলে, সেদিন এক বেলা ভাত খাই। যেদিন তেমন কাজ পাই না সেদিন ভাতের বদলে একটা চাপাতি খাই। আর এমন অনেকদিন যায় যেদিন কিছুই খেতে পাই না।”
তার দিকে এক নজর তাকালেই বুঝা যায়, সে সত্যি কথাই বলছে। সবুজ লুঙ্গীর নীচে তার পা দুটিতে মাংস আছে বলে মনে হয় না। আলীমুদ্দিন যে ছাতা মেরামত করে, সেই ছাতার মতই তার নিজের পাঁজর ও মেরুদণ্ড বের হয়ে আছে।
ঢাকার ৪০ মাইল উত্তরে মহকুমা শহর মানিকগঞ্জ। ১৫ হাজার লােকের বসতি। তাদের মধ্যে আলীমুদ্দিনের মত আরাে অনেকে আছে। কোথাও একজন মােটা মানুষ চোখে পড়ে না। কালু বিশ্বাস বলল, “আমাদের মেয়েরা লজ্জায় বের হয় না— তারা অর্ধনগ্ন।”
মানিকগঞ্জে এ অবস্থা কেন ? — মানুষের খাবার নেই, কাপড় নেই। “মুক্তি যুদ্ধের পর থেকে জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। চাল-ডাল কেনার সামর্থ্য কারাে নেই। সরকার বলেছিল আজাদীর পর সুদিন আসবে। আমার ভাই মুক্তিযুদ্ধে মারা গেছে। আমি আমার এই পা হারিয়েছি। সরকার কিছু করে নাই”--- কথাগুলাে বলল মনসুর আলী। মনসুর আলী একজন চাষী। বয়স পাঁয়তাল্লিশ। ১৯৭১ সালে পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা হয়ে লড়েছে। একটা পা হারিয়েছে।

বিস্তারিত: আইয়্যামে বাকশালীয়াত #০১


“... একজন মা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে আর অসহায় দৃষ্টিতে তার মরণযন্ত্রণাকাতর চর্মসার শিশুটির দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্বাস হতে চায় না তাই কথাটি বোঝাবার জন্য জোর দিয়ে মাথা নেড়ে একজন ইউরােপীয়ান বললেন, সকালে তিনি অফিসে যাচ্ছিলেন, এমন সময় এক ভিখারী এসে হাজির, কোলে তার মৃত শিশু।
আজ যারা সবচেয়ে বেশী অনাহারক্লিষ্ট --- বিধবা, বৃদ্ধ ও শিশু --- তাদের ভূমিকা বাংলাদেশের সমাজে একান্তই প্রান্তিক। হাড্ডিসার দেহ ও গর্তে ঢোকা পেট --- শিশুদের মধ্যে এটাই আজ সাধারণ দৃশ্য।
বস্তুতঃ বাংলাদেশের আমলারা বন্যাকে বর্তমান দুর্ভিক্ষের কারণ বলে উল্লেখ করলেও, বহু বিদেশী পর্যবেক্ষক মনে করেন যে, বাংলাদেশ সরকারই এর জন্য দায়ী। কেউ কেউ অভিযােগ করেন যে, সরকারের রেশন প্রথা মূলতঃ রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রতিরােধের জন্যই করা হয়েছে, অনাহার নিবারণের জন্য নয়। আরাে অভিযােগ করা হয় যে, সরকার বিলি-ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম, উপরন্তু খাদ্য-সামগ্রী বিদেশে পাচারে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
“দুর্ভিক্ষ বন্যার ফল ততটা নয়, যতটা মজুতদারী ও চোরাচালানের ফল। তদুপরি দেশের ভূমিহীন কৃষকেরা রেশন প্রথার বাইরে।” --- বললেন, স্থানীয় একজন অর্থনীতিবিদ। সম্ভবতঃ লাখ লাখ লোেক চাউল জোগাড় করতে পারছে না। এ অবস্থায় একমাত্র উপায় খাদ্য-শস্য আমদানী করা। কিন্তু আমদানীকৃত খাদ্য-সামগ্রী সবই রেশন প্রথা চালু রাখতেই ফুরিয়ে যায়। জনৈক বিশেষজ্ঞের মতে, “সেদিন পর্যন্ত রেশনের খাদ্য-সামগ্রীর শতকরা একভাগ মাত্র জরুরী রিলিফের জন্য ব্যয় করা হয়েছে। বাদবাকী সবটাই সিপাই, পুলিশ, সরকারী কর্মচারী এবং বাদবাকী যাদের রেশনকার্ড করার মত ইনফ্লুয়েন্স আছে, তারাই পেয়েছে।”
সরকারের রেশনিং প্রায়ােরিটির পেছনকার যুক্তি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে একজন বিদেশী পর্যবেক্ষক বললেন : “যারা অনাহারে আছে তারা দাঙ্গাহাঙ্গামা করে না, তাদের সে সামর্থ্য থাকে না। যারা অনাহারকে ভয় করে তারাই হাঙ্গামা করতে পারে।”... “আমরা মূলতঃ একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা লালন করে চলেছি।” বেশ তিক্ততার সাথে বললেন, সাহায্যকারী একটি দেশের অপর একজন পর্যবেক্ষক। “এর ফলে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। আমার মনে হয়, এ কারণেই বাংলাদেশ সরকারের সাহায্যের আবেদন উৎসাহজনক সাড়া জাগাতে পারেনি।”

বিস্তারিত: আইয়্যামে বাকশালীয়াত #০২


“... বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে আকাল চলছে। রোজ ট্রেনে করে অনাহার ক্লিষ্ট, মৃত্যুপথযাত্রী লােক জনাকীর্ণ রাজধানীতে এসে ভীড় করছে।
এদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনের বাইরে যায় না। সেখানকার পেভমেন্ট-এ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পারিবারিক গণ্ডীতে বিভক্ত হয়ে বসবাস করছে তারা। তাদের গর্তে চোকা চোখে চরম ক্ষুধাতুর দৃষ্টি, মাছিতে তাদের দেহ ছেয়ে আছে, তারা মাছি তাড়ায় না। শিশুগুলো এতই শীর্ণ যে, তাদের বুকের পাঁজর চামড়ার নীচে পাখীর খাঁচার মত দেখায়। কয়েকটি শিশুর পেট পীঠে লেগে গেছে, হাড় শুকিয়ে গেছে, চোখ বের হয়ে আছে — এদেরকে মানুষ বলেই মনে হয় না।
একটি নগ্ন দেহ লােক এক কোণায় পড়ে আছে। কংকাল ছাড়া আর কিছু নয় — সারা শরীর ঘায়ে ভরা। লোকজন তার পাশ দিয়ে যাবার সময় দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়।
এমনি অবস্থায় আরাে লােক স্টেশনের দেয়ালের পাশে পড়ে আছে। কেউ কেউ হয়ত জীবিত নেই, কিন্তু আমরা নিশ্চিত জানি না কে মরে গেছে। অপেক্ষাকৃত ছেলেরা শুকনাে গােবর কুড়াচ্ছে, জ্বালানি হিসাবে পােড়াবার জন্য, অন্যেরা আবর্জনার স্তুপ হাতড়ে চলেছে, কিছু খাবার পায় কিনা।
কেউ জানে না এই আকালে কত জীবন শেষ হয়ে গেছে। দেশে কোন নির্ভরযােগ্য পরিসংখ্যান নেই। যােগাযােগ ব্যবস্থা এতই খারাপ যে, দেশের দূর-দূরান্তে শত শত লােক মরে গেল, অথচ সরকারের কেউ শুনতেও পায়নি।
যে কথা সকলে জানে, তা হচ্ছে এই যে, গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে — যেখানে ব্ৰহ্মপুত্র নদ ভারত থেকে বের হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে — সেখানে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার ফলে গ্রীষ্মকালীন ফসলাদি ডুবে যায় এবং যে সব জেলায় বন্যার প্রকোপ বেশী হয়েছে, সেখানে শীতকালীন শস্য --- যা সাধারণতঃ নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে কাটা হয়---আদৌ রােপণ করা যায়নি।

সারা দেশে ফসল নষ্ট হয়নি। ঘাটতিক অনায়াসেই কাটিয়ে ওঠা যেত। কিন্তু সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য বিতরণে সরকারী অক্ষমতা, ব্যাপক দুর্নীতি, ভারতে চাউল পাচার প্রভৃতির জন্য তা একটি জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে।

বিস্তারিত: আইয়্যামে বাকশালীয়াত #০৩


“... পশ্চিম এশিয়ার এবং দুর্ভিক্ষের প্রাচীনতম বিচরণভূমি বাংলাদেশে মহাদুর্ভিক্ষের পুনরাবির্ভাব ঘটেছে। এত ব্যাপক দুর্ভিক্ষ সম্ভবতঃ অনেককাল দেখা যায়নি।
মৃত্যুর কোন নির্ভরযােগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। এক হিসাব মতে গত জুলাই মাসের বন্যায় সমস্ত ফসল এবং পরবর্তী মৌসুমের বীজ ধান বিনষ্ট হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবংগে কয়েক লাখ লােক মারা গেছে।
ঢাকার ‘সেভ দি চিলড্রেন ফাণ্ড’-এর কো-অর্ডিনেটর মিঃ মাইকেল প্রেসার বলেন, “আমাদের চরম আশঙ্কাই ফলে গেছে। আমরা এমন একটা বিপর্যয়ের সূচনাতে আছি যা আমি এই উপমহাদেশে গত ৩১ বছর দেখিনি। বসন্তের আগে নতুন ফসল উঠবে না। বাইরের দুনিয়া থেকে যদি বাংলাদেশ প্রতি সপ্তাহে ১ লাখ টন খাদ্যশস্য ও তদসঙ্গে প্রয়ােজনীয় মেডিক্যাল সাহায্য না পায়, আমার ভয় হচ্ছে, বহু লোকের জীবন বিপন্ন হবে।”
বস্তুত বাংলাদেশের একটি অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান হচ্ছে এই যে, দেশের সবগুলো হাসপাতাল মিলিয়ে শিশুদের জন্য সর্বমােট ৭৫টি বেড আছে --- অর্থাৎ প্রতি দশ লাখে একটি।
মীরপুর শরণার্থী শিবিরের প্রকান্ড লৌহ-কপাটের বাইরে বহু নারী ও শিশু ভীড় করে আছে। গেটের সামনে একজন সিপাই পুরানাে ৩০৩ রাইফেল হাতে পাহারা দিচ্ছে। তার কাজ আশ্রয়-প্রার্থীদেরকে দূরে দূরে সরিয়ে রাখা।
এ সব শরণার্থীদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে ১৫০ মাইল দূরে অবস্থিত সবচেয়ে দুর্ভিক্ষ-কবলিত রংপুর জেলা থেকে এসেছে। অনেকেই এতটা পথ পায়ে হেঁটে এসেছে। অন্ততঃ দু’দিন তাই এদের পেটে কিছু পড়েনি। দেখে মনে হ’ল মাত্র দুটি ছাড়া সব ক’টি শিশুই বসন্ত রােগে আক্রান্ত। এরা এত দূর্বল যে গা থেকে মাছিও তাড়াতে পারে না। এদিকে রিলিফ ক্যাম্পেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
বরাবর যেমন হয়ে থাকে আমার ক্ষেত্রেও তাই হ’ল। একজন বিদেশী সাংবাদিককে দেখে ক্যাম্পের গেট খুলে দেওয়া হল। সুপারিন্টেন্ডেন্ট আবদুস সালাম সবাইকে ভেতরে প্রবেশের জন্য ইংগিত করলেন। আর ওমনি ওরা প্রাণপণ ছুটল ভেতরে। এ কথা আমি আক্ষরিক অর্থেই বলছি।

বিস্তারিত: আইয়্যামে বাকশালীয়াত #০৪


“... বাংলাদেশ যেন এক বিরাট ভুল। একে যদি ভেঙ্গে-চুরে আবার ঠিক করা যেত।
জাতিসংঘের তালিকায় বাংলাদেশ সবচেয়ে গরীব দেশ। বস্তুতঃ এর কোন প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। ১৯৭০ সালের শেষে যখন বন্যা ও সামুদ্রিক জলােচ্ছাসে দেশের দক্ষিণ অঞ্চল ডুবে যায়, তখন দুনিয়ার দৃষ্টি এ দেশের অর্থাৎ তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের উপর নিবদ্ধ হয়। বিরাট রিলিফের কাজ সবে শুরু হয়েছিল, এমনি সময়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠল। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের উর্দুভাষী সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষের বহ্নি ধূমায়িত হতে থাকে। ১৯৭১ সালে সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষীদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের অপ্রতিরােধ্য সাফল্যের পরই বাঙালীরা তাদের অভিযােগ প্রকাশে সােচ্চার হয়ে ওঠে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের বিদ্রোহ যখন শুরু হ’ল তখন জয়ের কোন সম্ভাবনাই ছিল না। একমাত্র ভারতের সাগ্রহ সামরিক হস্তক্ষেপের ফলেই স্বল্পস্থায়ী — কিন্তু ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী — যুদ্ধের পর পাকিস্তানের পরাজয় ঘটে এবং বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়। বিশ্বের জাতিপুঞ্জ আবার সাহায্যার্থে দ্রুত এগিয়ে আসল --- এবার তাদের নিজ নিজ প্রাধান্য বজায় রাখার তাগিদে।
উড়ােজাহাজ থেকে মনে হয়, যে-কোন প্ৰধান শহরের মত রাজধানী ঢাকাতেও বহু আধুনিক অট্টালিকা আছে। কিন্তু বিমান বন্দরে অবতরণ করা মাত্রই সে ধারণা চুর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। টার্মিনাল বিল্ডিং-এর রেলিং ঘেঁষে শত শত লােক সেখানে দাঁড়িয়ে আছে, কেননা তাদের অন্য কিছু করার নাই। আর যেহেতু বিমান বন্দর ভিক্ষা কররার জন্য বরাবরই উত্তম জায়গা। ওসব আধুনিক অট্টালিকা ? সবগুলােই বস্তুতঃ অসমাপ্ত। পাকিস্তানীরা চলে যাবার পর সিমেন্ট ও আন্তর্জাতিক সাহায্য ফুরিয়ে গেছে। তখন থেকে এগুলাের কাঠামাে সাজান রয়েছে। যেগুলাের নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে এসেছিল সেগুলােও বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সিমেন্টের মত রং-ও কালােবাজারে অগ্নিমূল্য না দিলে পাওয়া যায় না।
বস্তুত বাংলাদেশ কালােবাজারের উপরই চলছে। মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও ‘শ্যানেল’ পারফিউম থেকে শুরু করে শিশুদের মনােহারী খেলনায় দোকানপাট জাম হয়ে রয়েছে। অগ্নিমূল্য দিলে সব কিছুই পাওয়া যায়। যেমন চিনি এক পাউণ্ড (প্রায় আধাসের) ১৬ টাকা। লবণেরও তাই দাম। বাঙালীদের প্রধান খাদ্য চাউলের দাম প্রতি পাউণ্ড ২০ পেন্স (৪ টাকা)। এই দ্রব্যমূল্যের পাশাপাশি একজন বাঙালী দিনমজুরের দৈনিক উপার্জন মাত্র ৫ টাকার মত, অর্থাৎ ৩০ পেন্স। তাছাড়া প্রতিদিন সে যে কাজ পাবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ এক অস্বাভাবিক মুদ্রাস্ফীতির মুঠোয়। গত পনের মাসে চাউলের দাম চার গুণ বেড়েছে। সরিষার তেলের দাম তিন গুণ ও কেরােসিন তেলের দাম হয়েছে দ্বিগুণ। কিন্তু মাইনে বাড়েনি কারাে। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহই নেই যে, এই মুদ্রাস্ফীতির কারণ বাজার দরের কারসাজি এবং ব্যাপক দুর্নীতি --- যে দুর্নীতি এই হতাশাগ্রস্ত দেশটির সর্বস্তরে ছড়িয়ে আছে।

বিস্তারিত: আইয়্যামে বাকশালীয়াত #০৫

Keywords